উত্তর ২৪ পরগনা: তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ফিরিয়ে দিল বিজেপি। ঘটনা উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের। বিজেপির জেলা সভাপতি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ফেরালেন চাবি।
বিধানসভার ফল ঘোষণার পর বারাসত পৌরসভা ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিধান মার্কেট সংলগ্ন তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের দখল নেয় কিছু বিজেপি কর্মী। সেখানে বিজেপির ফ্ল্যাগ-ফেস্টুন লাগানো হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। তবে শুক্রবার বারাসত বিজেপির জেলা সভাপতি রাজীব পোদ্দার নিজে উপস্থিত থেকে সেই পার্টি অফিসটি তৃণমূলের হাতে ফিরিয়ে দেন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলর নীলিমা মণ্ডলের হাতে চাবি তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর বার্তা, বারাসাত শহরে কোনও তৃণমূল পার্টি অফিস জোরজবস্তি করে দখল করা যাবে না।
"তাঁর কথায়, "পশ্চিমবঙ্গে যে অরাজকতা এতদিন চলছিল, তা থেকে মুক্তি লাভের জন্য মানুষ বিজেপিকে আশীর্বাদ করেছেন। কোনও দখলদারি মেনে নেবে না বিজেপি। শুধু পার্টি অফিস না, যে কোনও ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কোনও সমস্যার কারণ যে হবে; আদি-নব্য দলীয় কর্মীরা যেই হোক না কেন তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অন্যদিকে দুর্গাপুরেও দেখা গেল একই চিত্র। দখল হওয়া তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের দলীয় কার্যালয় ফিরিয়ে দিল বিজেপি। রাজ্যের গেরুয়া ঝড় উঠতেই দিকে দিকে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় দখলের অভিযোগ সামনে আসছিল। সেই রকমই দুর্গাপুরের এবিএল এলাকার বেসরকারি কারখানার শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় দখল করেছিল বিজেপি, বলে অভিযোগ। আর অভিযোগ পেতেই ব্যবস্থা গ্রহণ নিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তিন নম্বর মণ্ডল সভাপতি বুদ্ধদেব বুদ্ধদেব মণ্ডলের নেতৃত্বে ফিরিয়ে দেওয়া হয় কার্যালয়টি।
বিজেপির ঝাণ্ডা খুলে তৃণমূলের ঝাণ্ডা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তালা খুলে তৃণমূল কর্মীদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় সেই কার্যালয়ের চাবি। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি বুদ্ধদেব মণ্ডল বলেন, 'বিজেপি এই কাজ করেনি। তৃণমূল আর সিপিএম থেকে কিছু লোক হঠাৎ করে বিজেপিতে চলে এসে এই ধরণের নোংরামি করছে। তারাই দখল করছে। কিন্তু আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছি। আমরা খবর পাওয়ার পরেই ওই কার্যালয়টি ফিরিয়ে দিলাম।"
অন্যদিকে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কর্মী রঞ্জিত মহাপাত্র বলেন, 'বাংলার মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে। সেজন্যই বিজেপি জয়লাভ করেছে। কিন্তু দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর আর দখল করছে কিছু মানুষ, তৃণমূল আর সিপিএম থেকে হঠাৎ করে বিজেপিতে গিয়ে। কিন্তু বিজেপি যারা কার্যকর্তা রয়েছেন, তাঁরা আমাদের ফিরিয়ে দিল এই কার্যালয়। আমরা তাতে খুশি।"

No comments:
Post a Comment