রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রশাসনিক সংস্কৃতিতেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত সরকারি ছুটির জন্য পরিচিত পশ্চিমবঙ্গে এবার সেই রেওয়াজে লাগতে পারে লাগাম। নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সরকারি ছুটি নিয়ে কড়া অবস্থানের বার্তা দিলেন বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
মে মাসের শেষ দিকে রয়েছে বখরি ইদের উৎসব। গত কয়েক বছরে এই উপলক্ষে টানা দুদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হতো। আগের সরকারের তরফেও চলতি বছরে দুদিন ছুটির কথা জানানো হয়েছিল। তবে নবান্নের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত আগের দিনগুলির বদলে এবার একদিনই সরকারি ছুটি থাকবে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই ইদের দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই কারণেই নতুন করে ছুটির দিন ঠিক করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এর মাধ্যমে নতুন সরকার আসলে ভিন্ন বার্তা দিতে চাইছে। অতিরিক্ত ছুটির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কর্মসংস্কৃতিকে গুরুত্ব দেওয়ার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে। গত কয়েক বছরে পুজোর সময় দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যত বহু সরকারি দফতরে কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে যেত। সাধারণ মানুষকে নানা প্রশাসনিক পরিষেবা পেতে সমস্যার মুখেও পড়তে হতো। এবার সেই দীর্ঘ ছুটির রেওয়াজেও বদল আসতে পারে কি না, তা নিয়েই জল্পনা বাড়ছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমলে পুজো, ছট এবং অন্যান্য উৎসব মিলিয়ে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণার প্রবণতা ছিল। কিন্তু নতুন প্রশাসন সেই পথে হাঁটবে কি না, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা তুঙ্গে। প্রশাসনের একাংশের মতে, রাজ্যে কাজের পরিবেশ ও পেশাদারিত্ব ফেরাতে গেলে সরকারি ছুটির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, শিল্প ও বিনিয়োগ টানতে গেলে শুধু পরিকাঠামো নয়, নিয়মিত প্রশাসনিক কাজকর্ম চালু থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই অতিরিক্ত ছুটির বদলে কর্মদিবস বাড়ানোর দিকেই গুরুত্ব দিতে পারে নতুন সরকার। ইদের ছুটি কমানোর সিদ্ধান্তকে তাই অনেকেই ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন।

No comments:
Post a Comment