দক্ষিণ দমদম পুরসভার কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস-এর রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে শনিবার জোর চাঞ্চল্য ছড়াল রাজনৈতিক মহলে। সকালে তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হলেও, এর নেপথ্যে মানসিক চাপ ও আর্থিক দাবির অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকালে দীর্ঘক্ষণ দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে ঘরে ঢুকে তাঁরা কাউন্সিলরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলের পরিচিত মুখ হিসেবে সঞ্জয় দাস দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। তিনি ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার প্রভাবশালী নেতা দেবরাজ চক্রবর্তী-র ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন।
সম্প্রতি একাধিক অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম সামনে আসার পর থেকেই তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের কয়েকজন নেতাকে নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই আবহে সঞ্জয় দাসের মৃত্যুকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, গত কয়েক দিন ধরে তিনি চরম মানসিক চাপে ছিলেন এবং খুব একটা কারও সঙ্গে যোগাযোগও রাখছিলেন না।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনও লিখিত বার্তা উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ—সব দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিন ময়নাতদন্তের সময় হাসপাতালে পৌঁছন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। সেখানেই তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে দাবি করেন, মৃত কাউন্সিলরের কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল এবং সেই কারণে তিনি প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন। কুণাল ঘোষের কথায়, ওই চাপ সহ্য করতে না পেরেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন সঞ্জয় দাস। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

No comments:
Post a Comment