ধুতি-পাঞ্জাবিতে মোদীর বঙ্গবার্তা, ব্রিগেডে সৌরভ জল্পনা, শপথ ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে কলকাতা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, May 9, 2026

ধুতি-পাঞ্জাবিতে মোদীর বঙ্গবার্তা, ব্রিগেডে সৌরভ জল্পনা, শপথ ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে কলকাতা


 বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে আগামী শনিবার। ব্রিগেড ময়দানে শপথ নিতে চলেছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই অনুষ্ঠান ঘিরে এখন রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি জমে উঠেছে পোশাক, উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা নিয়ে নানা আলোচনা।

মোদীর বাঙালি সাজে নতুন রাজনৈতিক বার্তা

বঙ্গজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ধুতি-পাঞ্জাবি পরা এখন রাজনৈতিক মহলের অন্যতম আলোচনার বিষয়। দিল্লিতে জনসমক্ষে তিনি যখন একেবারে বাঙালি সাজে হাজির হন, তখন থেকেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় সংস্কৃতিকে নিজের পোশাকে তুলে ধরার অভ্যাস তাঁর বহুদিনের। এবার বাংলার ক্ষেত্রে সেই বার্তা আরও স্পষ্ট বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, নতুন সরকারের বহু বিধায়কও নাকি শপথ অনুষ্ঠানের জন্য ধুতি-পাঞ্জাবি প্রস্তুত রাখতে শুরু করেছেন। আলমারির ভাঁজ থেকে বেরিয়ে আসছে নতুন গিলে করা ধুতি, সাদা পাঞ্জাবি। কারণ, বাংলার মাটিতে প্রথমবার ক্ষমতায় আসা দলের কাছে এই অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক নয়, বাঙালিয়ানারও এক প্রদর্শনী।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শপথ মঞ্চে ধুতির উপস্থিতি এবার বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে। অনেকেরই মনে পড়ছে দুই হাজার এগারোর সেই শপথ অনুষ্ঠান, যেখানে বহু নেতা ধুতি পরে নজর কেড়েছিলেন। এবারও সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি হবে কি না, তা নিয়েই কৌতূহল বাড়ছে।

সৌরভকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

ব্রিগেডের শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি চর্চিত নাম সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ হিসেবে তাঁর কাছে ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে আমন্ত্রণপত্র। এখন প্রশ্ন, তিনি কি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন?

সৌরভের সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা রয়েছে। কয়েক বছর আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সৌরভের বাড়িতে নৈশভোজে গিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়। যদিও পরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সক্রিয়ভাবে দেখা যায় সৌরভকে। শিল্প বিনিয়োগ টানার উদ্যোগে বিদেশ সফরেও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে গিয়েছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিগেডে সৌরভের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে একাংশ। বিজেপি অবশ্য দাবি করেছে, এটি নিছক সৌজন্য। তাঁদের বক্তব্য, বাংলার একজন আইকন হিসেবেই তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল কমছে না।

ব্রিগেড ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতির কারণে গোটা কলকাতাকে কঠোর নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে ফেলা হচ্ছে। ব্রিগেড ময়দানকে একাধিক অংশে ভাগ করে প্রতিটি অংশের দায়িত্বে থাকবেন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। নিরাপত্তার সামগ্রিক তদারকিতে থাকবেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার।

মূল মঞ্চের সামনে থাকবেন বিশেষ অতিথিরা। তাঁদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ বাহিনীর একাধিক মহড়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ময়দানের আশপাশের উঁচু ভবনের ছাদেও মোতায়েন থাকবেন নিরাপত্তারক্ষীরা। আকাশপথে নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে আধুনিক উড়ন্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের অনুমতি থাকলেও জারি করা হয়েছে একাধিক বিধিনিষেধ। মাঠে ঢোকার সময় সঙ্গে ব্যাগ, ছাতা বা জলের বোতল রাখা যাবে না। তল্লাশির সময় নিষিদ্ধ জিনিস পাওয়া গেলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

শুধু ব্রিগেড নয়, শনিবার গোটা কলকাতাতেই বড়সড় যান নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। বিশেষ অতিথিদের যাতায়াতের সময় সাময়িকভাবে কিছু রাস্তা বন্ধও রাখা হতে পারে।

সব মিলিয়ে শনিবারের ব্রিগেড এখন শুধুই শপথের মঞ্চ নয়, বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল, বাঙালিয়ানা এবং ক্ষমতার নতুন সমীকরণের এক মহা প্রদর্শনীর অপেক্ষায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad