পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক রদবদলের পর রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতরে এবার শুরু হয়েছে ব্যাপক শুদ্ধিকরণ অভিযান। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরই খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া রেশন ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। বিধানসভায় শপথ গ্রহণের পর থেকেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, সাধারণ মানুষের খাদ্যসুরক্ষার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, রেশন ব্যবস্থায় যেসব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ জমে আছে, সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উপভোক্তাদের হাতে যাতে উন্নত মানের খাদ্যশস্য পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে গোটা সরবরাহ ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানো হবে।
খাদ্য দফতরের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রেশন দোকান থেকে আর নতুন করে আটা সরবরাহ করা হবে না। বর্তমানে গুদামে যে পরিমাণ আটা মজুত রয়েছে, সেটুকুই সীমিতভাবে বিতরণ করা হবে। এরপর থেকে শুধুমাত্র উন্নত মানের গম সরাসরি উপভোক্তাদের দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
অশোক কীর্তনীয়া আরও কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন যে খাদ্য দফতরে দুর্নীতির কোনো জায়গা থাকবে না। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কোনো আধিকারিক বা ব্যবসায়ী যদি অনিয়মে জড়িত হন, তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি রেশন দোকানে নিম্নমানের খাদ্যশস্য বিতরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট দোকানের লাইসেন্স বাতিল করে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সরকারি সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা হচ্ছে। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ ছাড়া কেউই রেশন বা সরকারি সহায়তা পাবে না। ভুয়ো উপভোক্তা কার্ড চিহ্নিত করে তা বাতিল করার কাজও জোরদার করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি খাদ্য দফতরে অতীতে ঘটে যাওয়া আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পুনরায় খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরনো ফাইলগুলো নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
নতুন মন্ত্রী প্রশাসনিক আধিকারিকদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে রেশন ব্যবস্থার অনিয়ম সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই কঠোর অবস্থান রাজ্যের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হতে পারে।

No comments:
Post a Comment