‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত ব্যঙ্গাত্মক ডিজিটাল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দাবি করেছেন, তাঁদের সংগঠনের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা হ্যাক হয়ে যাওয়ায় এখন তাঁদের কোনও প্ল্যাটফর্মের উপরই নিয়ন্ত্রণ নেই।
শনিবার সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে অভিজিৎ জানান, সংগঠনের মূল সামাজিক মাধ্যমের পেজের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টও হ্যাক করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই ভারতে তাঁদের একটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও সেটিও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
সম্প্রতি শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা এবং পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে প্রচার শুরু করেছিল এই সংগঠন। অভিজিতের অভিযোগ, সেই প্রচারের পর থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে। এমনকি তিনি মৃত্যুর হুমকিও পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে যারা জবাবদিহি চাইছে, তাদের কণ্ঠস্বর বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, সংগঠনের ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সংগঠনের একটি বিকল্প অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়েছে, এত বাধা সত্ত্বেও অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে লক্ষাধিক মানুষ যুক্ত হয়েছেন। সেই পোস্টে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার আবেদনও জানানো হয়েছে।
পুলিশের অনুমতি ছাড়া কোনও বিক্ষোভ বা মানববন্ধনের ডাক দেওয়া হয়নি বলেও সংগঠনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে। কারণ, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে পুরো আন্দোলনকে বদনাম করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন মহলেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকের মতে, সামাজিক মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ বা রাজনৈতিক সমালোচনার জায়গা সংকুচিত হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

No comments:
Post a Comment