ফের শক্তিশালী ভারতের অর্থভাণ্ডার! এক সপ্তাহে বাড়ল প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার রিজার্ভ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, May 16, 2026

ফের শক্তিশালী ভারতের অর্থভাণ্ডার! এক সপ্তাহে বাড়ল প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার রিজার্ভ


 ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তির খবর সামনে এল। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার বা ফোরেক্স রিজার্ভ এক সপ্তাহের মধ্যে ৬.২৯৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর ফলে ভারতের মোট ফোরেক্স রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯৬.৯৮৮ বিলিয়ন ডলারে।

এর আগের সপ্তাহে অবশ্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বড় পতন দেখা গিয়েছিল। তখন রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছিল ৬৯০.৬৯৩ বিলিয়ন ডলারে। তবে নতুন রিপোর্টে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা স্থিতি ফেরার পাশাপাশি সোনার দামের বৃদ্ধি এবং বিদেশি মুদ্রা সম্পদের মূল্যবৃদ্ধিই এই উত্থানের অন্যতম কারণ।

আরবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বিদেশি মুদ্রা সম্পদ বা ফোরেন কারেন্সি অ্যাসেটস (FCA) বেড়ে হয়েছে ৫৫২.৩৮৭ বিলিয়ন ডলার। এই অংশে মূলত ডলার ছাড়াও ইউরো, পাউন্ড, ইয়েনের মতো বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা অন্তর্ভুক্ত থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই মুদ্রাগুলির দামের ওঠানামার প্রভাবও রিজার্ভের উপর পড়ে।

শুধু বিদেশি মুদ্রাই নয়, ভারতের সোনার ভাণ্ডারেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এক সপ্তাহে গোল্ড রিজার্ভের মূল্য ৫.৬৩৭ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। বর্তমানে দেশের মোট সোনার ভাণ্ডারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১২০.৮৫৩ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এই উত্থান হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়াও স্পেশাল ড্রইং রাইটস (SDR) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা IMF-এর কাছে ভারতের রিজার্ভ পজিশনেও সামান্য বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছে আরবিআই।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে ভারতের ফোরেক্স রিজার্ভ রেকর্ড ৭২৮.৪৯৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু পরে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ এবং টাকার বিনিময় মূল্য ধরে রাখতে আরবিআইয়ের বাজারে হস্তক্ষেপের কারণে রিজার্ভে কিছুটা পতন দেখা যায়। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই ফের রিজার্ভ বৃদ্ধির খবর অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

তবে সোশ্যাল মিডিয়া বা কিছু প্রতিবেদনে যেভাবে দাবি করা হচ্ছে যে সাধারণ মানুষের খরচ কমানো বা প্রধানমন্ত্রীর আবেদন মানার ফলেই সরাসরি দেশের ভাণ্ডারে ৬০ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে, সেই দাবির পক্ষে কোনও সরকারি বা আরবিআই রিপোর্টে স্পষ্ট প্রমাণ নেই। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, সোনার মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদের পরিবর্তনের কারণেই এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad