তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড়সড় পালাবদলের পর বিধানসভায় আস্থা ভোটে জয় পেল মুখ্যমন্ত্রী সি. জোসেফ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। জোটসঙ্গীদের সমর্থন নিয়ে তাঁর দলের হাতে আগেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। তবে আস্থা ভোটের দিন সেই শক্তি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভোটাভুটিতে সরকারের পক্ষে পড়ে ১৪৪টি ভোট, বিপক্ষে যায় ২২টি ভোট। এদিন পাঁচজন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন।
আস্থা ভোটে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেন, তাঁর সরকার সংখ্যালঘু ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে। তিনি জানান, সরকার ধর্মনিরপেক্ষ নীতিতে চলবে এবং উন্নয়নের গতি হবে দ্রুত। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, আগের সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিও চালু থাকবে এবং সেগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বন্ধ করা হবে না।
বিধানসভায় এদিন রাজনৈতিক নাটকও কম হয়নি। প্রধান বিরোধী দল ভোটাভুটি বয়কট করে ওয়াকআউট করে। বিরোধী শিবিরের দাবি, নতুন সরকার জোট রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে এবং বিভিন্ন দলের সমর্থন ভেঙে নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে। তবে সরকারপক্ষের বক্তব্য, জনগণের সমর্থন ও স্থিতিশীল প্রশাসনের লক্ষ্যেই এই জোট গড়ে উঠেছে।
আস্থা ভোট ঘিরে সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে বিরোধী শিবিরের অন্দরের ভাঙন। বিশেষ করে অন্যতম বড় আঞ্চলিক দলের মধ্যে দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। দলের একাংশ সরকারকে সমর্থন করার পক্ষে অবস্থান নেয়, অন্য অংশ সরাসরি বিরোধিতা করে। এর ফলে কয়েকজন বিধায়ক দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সরকারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন বলেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আস্থা ভোট শুধু একটি সরকারের জয় নয়, বরং তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতিতে যেসব পুরনো দল প্রভাব বিস্তার করে এসেছে, তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসছে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন শিবির।
চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় মুখ থেকে রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসা বিজয় ইতিমধ্যেই যুব সমাজের মধ্যে বড় প্রভাব ফেলেছেন। এবার প্রশাসনিক ময়দানেও তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন। তাঁর প্রথম বড় পরীক্ষা ছিল এই আস্থা ভোট, আর সেই পরীক্ষায় বড় ব্যবধানে সফল হওয়ায় আগামী দিনে তাঁর সরকারের উপর রাজনৈতিক নজর আরও বাড়বে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল।

No comments:
Post a Comment