কলকাতা: ক্রীড়া জগতে মর্মান্তিক খবর। প্রয়াত মোহনবাগানের প্রাণপুরুষ বলে পরিচিত স্বপ্ন সাধন বসু ওরফে টুটু। মঙ্গলবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াজগতে নেমে এসেছে গভীর শূন্যতা। তাঁর চলে যাওয়া যেন শুধু একজন মানুষের বিদায় নয়, এক দীর্ঘ সময়ের, এক ইতিহাসের অবসান। টুটু বসুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী সমাজমাধ্যম পোস্টে লেখেন, "মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি, প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক শ্রী স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু) মহাশয়ের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। মোহনবাগান ক্লাব ও টুটু বসু একে অপরের পরিপূরক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া প্রশাসনে ওনার অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
তিনি আরও লিখেছেন, "ওনার নেতৃত্ব, দূরদৃষ্টি এবং খেলাধুলার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার, পরিজন, শুভানুধ্যায়ী এবং অসংখ্য অনুরাগীদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে ওনার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করি। ওঁ শান্তি।"
উল্লেখ্য, দীর্ঘ রোগভোগের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগানের প্রাণপুরুষ স্বপন সাধন (টুটু) বসু। সোমবারই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় ফুটবলে। মঙ্গলবারই তাঁকে দেখতে হাসপাতালে যান বর্তমান ফুটবল প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে ও বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন মোহনবাগান ক্লাবের এই প্রাণকর্তা। হুইলচেয়ার ছাড়া চলাফেরা করাও সম্ভব ছিল না তাঁর জন্য। সোমবার রাতে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। ভেন্টিলেশনেই রাখা হয়েছিল তাঁকে। বেশ কয়েক বছর ধরেই ফুটবলের সঙ্গে নিজের দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছিলেন টুটু বসু। তাঁর অসুস্থতার খবরে উদ্বিগ্ন ছিলেন রাজ্যের হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী। রসগোল্লা মানে যেমন কলকাতা, তেমনই মোহনবাগানের অর্থ টুটু বসু – এমনই বুঝতেন মোহন সমর্থকেরা। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয়বার হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি। এরপরেই যেন তাঁর সাজানো বাগানে নেমে আসে এক অপার নিস্তব্ধতা। ১২ মে ২০২৬, রাত ১১ টা ৫৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগানের এই প্রবাদপ্রতিম কর্তা।
প্রয়াত টুটু বসুকে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে ভিড় জমতে শুরু করেছে। টুটু বোসকে শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাসভবনে যান বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, "আমার কাছে দীর্ঘদিন টুটু দা'র আলাপ। ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে তাঁর কাছে যাওয়া। মনখারাপ হলে তাঁর কাছে এলে উচ্ছ্বসিত হয়ে যেতাম। উনি নেই ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে। টুটুদার অবদান লিখে শেষ হবে না।"
টুটু বোসকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বাসভবনে উপস্থিত হন বিমান বসু। পুত্র সৃঞ্জয় বোসের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, "টুটুর সঙ্গে আমার কবে থেকে পরিচিত বলা মুশকিল। সবসময় খোলা মনে কথা বলত। আজ এই খোলা মনটা পাওয়া দুর্লভ। এরকম মানুষ সবাই হয় না। অনেকের অর্থ থাকে, সেই মনটা থাকে না। ওঁর দুটোই ছিল।"
বালিগঞ্জের বাসভবনে টুটু বোসকে শ্রদ্ধার্ঘ্য দেন মুনমুন সেন, তাঁর কন্যা রাইমা সেন। শ্রদ্ধা জানান বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত এবং প্রাক্তন ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য। দীর্ঘদিন মোহনবাগানের হয়ে খেলা ফুটবলার বলেন, "উনি যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে মোহনবাগানের সেবা করেছেন, তা ভোলা যায় না। টুটুবাবু এতো কাজ করেছেন, তা বলে শেষ হবে না। ওঁর প্রয়াণ একটা বড় ক্ষতি। বিশেষ করে ওঁর পরিবারের জন্য।" শোকপ্রকাশ করেছেন নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তর এবং পুর ও নগরোন্নয়ন বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, "বর্ষীয়ান ক্রীড়া প্রশাসক, মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সচিব, প্রাক্তন সভাপতি এবং প্রাক্তন সাংসদ স্বপন সাধন বসু (টুটু বসু)-র প্রয়াণে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি। তাঁর শোকাহত পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা।"
অভিষেক লিখেছেন, "মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি প্রাক্তন সাংসদ টুটু বসুর প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত।" শোকবার্তা জানানো হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও।

No comments:
Post a Comment