সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। তাঁর সৎ ভাই প্রতীক যাদবের অকালমৃত্যুর খবরে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার ভোরে লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র আটত্রিশ বছর।
প্রতীক যাদব ছিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের ছোট ছেলে। তাঁর মা ছিলেন সাধনা গুপ্তা। সেই সূত্রেই তিনি অখিলেশ যাদবের সৎ ভাই। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও প্রতীক নিজেকে সরাসরি রাজনীতির বাইরে রেখেছিলেন। ব্যবসা, শরীরচর্চা এবং পশু কল্যাণমূলক কাজের সঙ্গেই বেশি যুক্ত ছিলেন তিনি।
প্রতীক যাদবের স্ত্রী অপর্ণা যাদব বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টির নেত্রী। একসময় সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে বহুবারই যাদব পরিবারের অন্দরমহল খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে।
প্রতীকের মৃত্যু ঘিরে নতুন করে নানা জল্পনাও শুরু হয়েছে। কয়েক মাস আগেই সামাজিক মাধ্যমে স্ত্রী অপর্ণা যাদবকে নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেখানে দাম্পত্য সম্পর্কের টানাপোড়েন, মানসিক অবসাদ এবং বিচ্ছেদের ইঙ্গিতও মিলেছিল। সেই পুরনো ঘটনাগুলি আবার সামনে আসতেই চর্চা তীব্র হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন প্রতীক যাদব। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। যদিও তাঁর মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।
রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও বিলাসবহুল জীবনযাপন, দামি গাড়ির শখ এবং শরীরচর্চার প্রতি গভীর আগ্রহের জন্য প্রতীক যাদব প্রায়ই আলোচনায় থাকতেন। লখনউয়ে তাঁর ফিটনেস সংক্রান্ত ব্যবসাও ছিল। পাশাপাশি পশু উদ্ধার এবং সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়।
প্রতীকের আকস্মিক মৃত্যুতে যাদব পরিবারে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের বহু নেতা-নেত্রী ইতিমধ্যেই শোকপ্রকাশ করেছেন। উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে যাদব পরিবারের দীর্ঘ প্রভাব থাকায় এই মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

No comments:
Post a Comment