গরমকালে শরীরে জলের ঘাটতি হলে পেটের নানা সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস, অম্বল, পেট ফাঁপা, বুক জ্বালা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা এই সময়ে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে অনেকটা জল বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরে জলের অভাব তৈরি হলে হজমের সমস্যা বাড়তে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে পেটে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এর ফলে বুক ও পেটে জ্বালাভাব তৈরি হয়। পাশাপাশি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াও সহজে বাড়তে পারে, যা হজমে গোলমাল তৈরি করে।
এ সময় বেশি তেল-মশলাযুক্ত খাবার খেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার হজমে সমস্যা তৈরি করে এবং গ্যাস বা অম্বলের কারণ হতে পারে। আবার অনেকে গরমে বেশি ঠান্ডা পানীয়, আইসক্রিম বা মিষ্টি জাতীয় ঠান্ডা খাবার খান। কিন্তু এতে পেটের সমস্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকে। যাদের দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে গ্যাস, পেটব্যথা বা ডায়রিয়াও হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, গরমের দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন লিটার জল পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাবের জল, লেবুর শরবত বা ওআরএস খেলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে।
পেট ঠান্ডা রাখতে দই, ঘোল, লস্যি বা রায়তার মতো খাবার উপকারী। এছাড়া তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ও কাকড়ার মতো জলসমৃদ্ধ ফল খেলে শরীরে জলের অভাব কম হয়।
এই সময় রাস্তার খাবার বা অতিরিক্ত ঝাল-তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। বাড়ির হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চা, কফি ও কোল্ড ড্রিঙ্ক বেশি খাওয়াও ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন পেটের ভেতরে জ্বালা বাড়ায়। অনিয়মিত খাবার খাওয়া, রাত জাগা, মানসিক চাপ এবং কম ঘুমও পেটের সমস্যার বড় কারণ হতে পারে।
ঘরোয়া উপায় হিসেবে মৌরি, জিরে ও ধনে ভিজিয়ে তার জল খাওয়া উপকারী বলে জানিয়েছেন আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বিট নুন ও ভাজা জিরে মিশিয়ে ঘোল খেলে হজম ভালো থাকে। বেলের শরবত, আমপানা কিংবা আখের রসও গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
তবে দীর্ঘদিন পেটব্যথা, বমি, ডায়রিয়া বা ওজন কমার মতো সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

No comments:
Post a Comment