ন্যাশনাল ডেস্ক, ১১ মে ২০২৬: দেশের পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার ধরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত চ্যালেঞ্জের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নয়াদিল্লীতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বন্যা, তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগের জন্য দেশের প্রস্তুতি মূল্যায়নে এই উচ্চ-পর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় উন্নত করা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘শূন্য হতাহত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা’র রূপকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোরালোভাবে জোর দেন।
এই বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন মন্ত্রক, সংস্থা এবং রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় পর্যালোচনা করা হয়। অমিত শাহ আধিকারিকদের দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন যে, "আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ "শূন্য প্রাণহানি", অর্থাৎ দুর্যোগ যাই হোক না কেন, একটিও প্রাণহানি যেন না হয়।
ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা বলেছেন, বর্ষার আগে ভারতের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার ওপর বৈঠকে আলোকপাত করা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দেন যে, বন্যার মতো দুর্যোগের সময় দ্রুত এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি রাজ্যে বন্যা সংকট ব্যবস্থাপনা দল (FCMT) গঠন ও সক্রিয় করতে হবে। তিনি বলেন যে, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (NDMA)-র জারি করা নির্দেশিকাগুলির কার্যকর বাস্তবায়ন রাজ্য, জেলা এবং পৌরসভা স্তরে নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ এবং সিকিমের ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদগুলির জন্য যে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, তা আরও সম্প্রসারিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। অমিত শাহ বলেন যে, বর্তমানে ৩০টি হ্রদের জন্য যে পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, তাতে অন্তত ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিৎ।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলা হয় যে, আইএমডি (আবহাওয়া বিভাগ) এবং কেন্দ্রীয় জল কমিশন এখন থেকে ৩ দিনের পরিবর্তে ৭ দিন আগেই বৃষ্টিপাত ও বন্যার পূর্বাভাস দিতে পারবে। এতে প্রশাসন প্রস্তুতির জন্য আরও বেশি সময় পাবে। তাপপ্রবাহ প্রসঙ্গে শাহ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, কৃষিক্ষেত্রে এর প্রভাব কমাতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োজন হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 'সমগ্র সরকার' এবং 'সমগ্র সমাজ' নীতির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক অ্যাপ তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান ব্যবস্থাগুলোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষার জন্য CAMPA তহবিলের যথাযথ ব্যবহার এবং জল সংরক্ষণের জন্য চেক ড্যাম ও নদী প্রকল্পগুলোর ওপর মনোযোগ দেওয়ারও আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় জলবিদ্যুৎ মন্ত্রী সি.আর. পাটিল, এনডিএমএ, এনডিআরএফ এবং আবহাওয়া বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য একটি বিশদ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

No comments:
Post a Comment