দক্ষিণ ২৪ পরগনা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তৎকালীন পুলিশের অ্যাডিশনাল জোনাল অফিসার মিতুন কুমার দে-র বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছেন। ১৭ই মে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করে তিনি।
গিয়াসউদ্দিন জানান, পশ্চিম মগরাহাট বিধানসভার প্রধান, পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ বা পঞ্চায়েত সমিতির প্রতিটি দফতরের টিকিট পাইয়ে দিতেন মিতুন কুমার দে। এমনকি তাঁর অফিসে বসেই কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। পাশাপাশি এক তৃণমূল কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, থানার মধ্যে মারধরের পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনও হয়েছে। প্রতিবাদ করেও কোনও ফল মেলেনি। এমনকি উল্টে মিতুন কুমার দে তাঁকে ধমক দিয়েছিলেন এবং লাঠি উঁচিয়ে মারতে এসেছিলেন। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, মমতা ও অভিষেককে পরবর্তীতে সব জানালেও এর কোনও সুরাহা হয়নি।
গিয়াসউদ্দিনের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবটাই জানতেন। তাঁর নির্দেশ মেনেই মিতুন কুমার দে এই দুর্নীতি করেছেন। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চুপ ছিলেন। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সবটা জানালেও কোনও সুরহা মেলেনি। তিনি জানান এসডিপিও মিতুন কুমার হঠাৎ করে কয়েদিনের মধ্যেই ডায়মন্ড হারবারের অ্যাডিশন এসপি হয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি তিনি আসার পর রাতারাতি এসডিপিও অফিস পরিবর্তন হয়ে যায়। আর এইসবের পিছনেই রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর আরও দাবী, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ঘনিষ্ঠ। আর তাঁর ওপর ভরসা রেখেই থানায় এফআইআর দায়ের করতে এসেছেন। এতদিন দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ খুল পারেননি। প্রশাসনের অত্যাচার সহ্য করেও মুখ খুলতে পারেননি। গিয়াসউদ্দিনের কথায়, “আমি যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্য দিয়েই যাচ্ছি। এতদিন আমি অভিযোগ দায়ের করতে পারিনি। তবে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর আস্থা রেখেই এফআইআর দায়ের করতে এসেছি। আতঙ্ক এবং ভয়ের মধ্যে ছিলাম। দোষীর উপযুক্ত শাস্তি হোক।”
উল্লেখ্য, এর আগে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য ও অমিত শাহের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার অভিযোগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। এবারে আরও একবার মামলা দায়ের হল অভিষেকের বিরুদ্ধে।

No comments:
Post a Comment