উত্তর ২৪ পরগনা: ক্ষমতায় এসেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নতুন রাজ্য সরকারের। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হুমকি, তোলাবাজি, ভোট পরবর্তী হিংসা-সহ অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগ পুলিশের জালে তৃণমূলের তাবড় তাবড় নেতারা। এবারে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে গ্ৰেফতার পঞ্চায়েত প্রধান সহ ৪ তৃণমূল নেতা। এছাড়াও আরও তিনজনকে গ্ৰেফতার করা হয়েছে। ধৃত ৭ জনকে বুধবার আদালতে পেশ করা হয়।
ধৃতদের বিরুদ্ধে ভোট পরবর্তী হিংসা, বাড়িতে ঢুকে লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দমদম নাগেরবাজার এলাকা থেকে চারজন হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা সহ মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৪ ঠা মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই এই অভিযুক্তরা গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আমডাঙা কাশিমপুর পঞ্চায়েতের প্রধান মেঘনাদ দাস, কাশিমপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের স্বামী তথা কলকাতা পুলিশে কর্মরত এক আধিকারিক তথা তৃণমূল নেতা সৌমেন ওরফে গোপাল কাঞ্জিলাল, তৃণমূল নেতা গোপাল কাঞ্জিলালের ছেলে সম্বিত কাঞ্জিলাল এবং তৃণমূল নেতা সত্যজিৎ দত্ত। এই চারজনের পাশাপাশি তৃণমূলের আরও তিন সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, ২০২১ ও ২০২৬- এর ভোট ও এর পরবর্তীতে একাধিক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে ধৃতদের বিরুদ্ধে। দত্তপুকুর ও কাশিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক বাসিন্দা দত্তপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগ, এই তৃণমূল নেতারা দলবল নিয়ে সাধারণ মানুষের বাড়িতে ঢুকে মারধর করতেন। শুধু তাই নয়, ভাঙচুর, অবাধে লুটপাট এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিতেন।
অভিযোগ পেয়েই তদন্তে নামে পুলিশ। শুরু হয় অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে নাগেরবাজার এলাকা থেকে পুলিশ এই ৪ নেতা সহ মোট ৭ জনকে পাকড়াও করে।
ধৃতদের বুধবার আদালতে পেশ করে পুলিশ। অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছতে চান তদন্তকারীরা। যদিও নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ধৃত তৃণমূল নেতারা। এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁরা বলেন, 'মিথ্যা অভিযোগ, সব রাজনৈতিক চক্রান্ত। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে।' তৃণমূল নেতা গোপাল কাঞ্জিলাল বলেন, 'ফাঁসানো হচ্ছে, আমাদের কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। জ্ঞানত কোনও অন্যায় করিনি। আদালতের ওপর আস্থা আছে।'

No comments:
Post a Comment