নদিয়া: নবদ্বীপে একটি ক্লাবঘর থেকে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নবদ্বীপের বরালঘাট স্পোর্টিং ক্লাবে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ত্রাণের ত্রিপল, কম্বল এবং তন্তুজের বিভিন্ন রকম শাড়ি উদ্ধার করে। সূত্রের খবর, ক্লাবের প্রায় দশটি ঘরে এই সামগ্রীগুলি মজুত করে রাখা হয়েছিল। তৃণমূল নেতার মদতেই ক্লাবঘরে এই সামগ্রী মজুদ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য সরকারি অর্থে বরাদ্দ হওয়া ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাখা ছিল। ঘটনাস্থলটি নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহার পাড়ায় এবং তাঁর ফ্ল্যাটের পাশেই অবস্থিত এবং তাঁর মদতেই এটা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমায় সাধারণ মানুষ ও বিজেপির নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবী, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজেপি নেত্রী সোমা মুখোপাধ্যায় বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের কাছে খবর আসছিল এই ক্লাবে প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছে তৃণমূলের নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে। সেই কারণেই আমরা আজ এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। বহু ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে পাশাপাশি আমরা খবর পাচ্ছি বস্তা করে টাকা রাখা ছিল। সেগুলো যেন প্রকাশ্যে আসে সেই দাবী জানাচ্ছি।"
এদিকে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নবদ্বীপ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। এদিন রাত প্রায় সাড়ে তিনটে নাগাদ বিশাল পুলিশবাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পৌরপতির বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে নবদ্বীপ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ, এই সময় উত্তেজিত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছুড়ে মারেন। পাশাপাশি 'চোর-চোর' স্লোগানেও সরব হয়ে ওঠে জনতা। যদিও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন বিমানকৃষ্ণ সাহা। তাঁর দাবী, তিনি কোনও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নন।
আজ শনিবার ধৃত বিমানকৃষ্ণ সাহাকে তোলা হবে নবদ্বীপ আদালতে।

No comments:
Post a Comment