কলকাতা: ভিন রাজ্যে আত্মগোপন করেও শেষরক্ষা হল না। পুলিশের জালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। অবশেষে পুরীর একটি হোটেল থেকে ওড়িশা পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে বুধবার তাঁকে আটক করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
সূত্রের খবর, ভোট পরবর্তী সময়ে একটি বিজয় মিছিল থেকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোেগ ওঠে দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। সম্প্রতি বিষ্ণুপুরের বিধায়কের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে (যার সত্যতা যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ)। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে অন্য দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হুমকিমূলক মন্তব্য করেছেন দিলীপ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ দায়ের হয় বিধায়কের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশ।
হুমকির অভিযোগের ভিত্তিতে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই তদন্তের স্বার্থেই গত ১৪ মে পৈলানে তাঁর পেল্লাই বাড়িতে হানা দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়িতে তাঁর খোঁজ মেলেনি। বাড়ির বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস খতিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। তবে সেই সময়ও তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। স্থানীয় সূত্রে খবর, পুলিশ আসার খবর পেয়েই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান দিলীপ। তারপর থেকেই গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন।
এরপর তদন্তের মোড় ঘুরে যায় দিলীপ মণ্ডলের ছেলেকে অর্ঘ্য মণ্ডলকে গ্রেফতার করতেই। দিলীপ পুত্রের বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি পাকানোর অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতারির সময় তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আরও চার জনকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের আধিকারিকেরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্ঘ্য মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই একাধিক আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ফোন নম্বর হাতে পান তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ শুরু হয়। তদন্তকারীরা ধীরে ধীরে নিশ্চিত হন যে, দিলীপ মণ্ডল রাজ্যের বাইরে কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছেন।
প্রথম দিকে তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে মোবাইল ফোনের লোকেশন ও যোগাযোগের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি পুরীর একটি হোটেলে ভুয়ো পরিচয়ে লুকিয়ে রয়েছেন। সেখান থেকেই নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। খবর নিশ্চিত হতেই মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান শুরু করে এসটিএফ। ওড়িশা পুলিশের সহযোগিতায় যৌথভাবে ওই হোটেলে হানা দেন গোয়েন্দারা। বুধবার ভোররাতে সেখান থেকেই আটক করা হয় দিলীপ মণ্ডলকে।
এই গোটা অভিযান নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেওয়া না হলেও, রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওড়িশা পুলিশের সহযোগিতায় সফল যৌথ অভিযান চালিয়ে পুরীতে দিলীপ মণ্ডলকে আটক করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব দ্রুত তাঁকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হবে।

No comments:
Post a Comment