কলকাতা: সোমবার ৪ঠা মে ভোট গণনা। আর এই গণনা ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে ক্রমশই। একদিন আগেই গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি দাবী করেছেন যে, গণনার দায়িত্বে থাকা বেশ কয়েকজন আধিকারিক তাঁদের কর্মপরিধি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদান করছেন। বিজেপি নেতার মতে, এই আধিকারিকরা তাঁদের বিভাগের অন্তর্গত বিভিন্ন সংস্থা বা সমিতির কাছে নিজেদের কর্মস্থল, পদ এবং দায়িত্বের মতো তথ্য প্রকাশ করছেন। এই বিষয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
শুভেন্দুর মতে, এটি নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের সামিল এবং এর ফলে একাধিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, এভাবে তথ্য ফাঁস হলে আধিকারিকদের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে, যা ভোটগণনার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণনার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে আধিকারিকদের দায়িত্ব সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরণের তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তাঁদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন এক্স পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, "আমার নজরে এসেছে যে, ভোট গণনার দিনের দায়িত্বে নিযুক্ত বেশ কয়েকজন আধিকারিক তাঁদের বিভাগীয় সংস্থা ও সমিতিগুলোর কাছে নিজেদের নির্দিষ্ট দায়িত্বের বিবরণ, অবস্থান এবং পদবি প্রকাশ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আমি তথ্য পেয়েছি যে, স্প্রেডশিট এবং তালিকা প্রচার করা হচ্ছে যেখানে আধিকারিকরা স্বেচ্ছায় বা চাপের মুখে তাঁদের "নির্বাচনী দায়িত্বের তথ্য" ভরছেন, যার মধ্যে গণনা প্রক্রিয়ায় তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এটি নির্বাচনী প্রোটোকলের একটি গুরুতর লঙ্ঘন এবং এর ফলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ঘটতে পারে:
১. অযাচিত প্রভাবের ঝুঁকি: যখন কোনও আধিকারিক নির্দিষ্ট দায়িত্বের বিষয়টি কোনও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত সংস্থা বা ইউনিয়নের কাছে প্রকাশ হয়ে যায়, তখন তা অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাব এবং ভীতি প্রদর্শনের পথ খুলে দেয়।"
তিনি লেখেন, "গণনা প্রক্রিয়ার পবিত্রতা কর্মী মোতায়েনের গোপনীয়তার ওপর নির্ভর করে। এই গোপনীয়তার যেকোনও লঙ্ঘন ফলাফলের নিরপেক্ষতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।সংগঠনগুলোর এই ধরণের "তথ্য সংগ্রহ" প্রায়শই গুরুত্বপূর্ণ গণনার সময় শাসক দলের পক্ষে কাজ করার জন্য আধিকারিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি প্রচ্ছন্ন প্রচেষ্টা।"
শুভেন্দু অধিকারী আরও লেখেন, "আমি ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই বিষয়টি অবিলম্বে আমলে নিতে এবং কোনও আধিকারিককে কোনও সংস্থা বা সমিতির কাছে তাঁদের নির্ধারিত গণনার দায়িত্ব প্রকাশ করা থেকে বিরত রাখার জন্য কঠোর নির্দেশ জারি করতে দৃঢ়ভাবে অনুরোধ করছি। এছাড়াও, যে সংস্থাগুলো এই ধরণের সংবেদনশীল কর্মী মোতায়েনের তথ্য সংগ্রহ করছে, তাদের বিরুদ্ধে দয়া করে তদন্ত শুরু করুন।"
উল্লেখ্য, রাজ্যের ২৯৩টি বিধানসভা আসনের ভোটগণনা হবে সোমবার ৭৭টি কেন্দ্রে। গণনায় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তরফে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment