কলকাতা: কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। আর এবারের নির্বাচনে এই মাছ নিয়ে কম উত্তপ্ত হয়নি রাজ্য-রাজনীতি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বারবার এই মাছ নিয়ে বিজেপিকে তোপ দেগেছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবেন বলেও তোপ দেগেছেন। পাল্টা মাছ উৎপাদনে জোর দেওয়ার কথা শোনা গিয়েছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বদের মুখে। আর
বিজেপি যে একেবারেই মাছ বিরোধী নয়, ক্ষমতায় এসে সেটারই প্রমাণ দিল পদ্ম শিবির; রবিবার কলকাতা আমহার্স্ট স্ট্রিটে মাছ উৎসব পালন করেন বিজেপির নেতাকর্মীরা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীর দিলীপ ঘোষ ও মানিকতলা বিধানসভার বিধায়ক তাপস রায়। এই বিষয়ে সমাজমাধ্যমেও পোস্ট করেছেন রাজ্যের নতুন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে এদিন কব্জি ডুবিয়ে মাছ-ভাত খেলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এলাকার সকল মানুষদের মাছ-ভাত খাইয়ে এই উৎসব উদযাপন করা হয়। এদিন দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, অন্ধ্রের মাছ নয় বাংলার মাছ বাঙালিকে খাওয়ানো হয়েছে। দিলীপ ঘোষ, তাপস রায়রা এদিন মধ্যাহ্নভোজ করেন ভাত, মাছের মাথা দিয়ে ডাল, ফিস ফিঙ্গার, রুই মাছ, ভেটকি মাছ, পাবদা মাছ দিয়ে।
তিনি বলেন, " মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর চ্যালা-চামুণ্ডারা এতদিন কত মিথ্যে কথা বলে লোককে বিভ্রান্ত করেছেন। আমরা তার উত্তর মুখে দেব না, কাজে দেব। আমাদের সরকার সেভাবেই কাজ করবে। তাই আমাদের কর্মীরা প্রথমেই বাঙালিকে মাছ-ভাত খাওয়াচ্ছেন। আর বাংলার মাছ খাওয়াচ্ছি আমরা, অন্ধ্রের নয়। ১৫ বছরে যে পশ্চিমবঙ্গকে মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে পারেনি, অন্ধ্র থেকে এনে মাছ খাওয়াচ্ছে, সে বলছে বিজেপি এসে নাকি মাছ বন্ধ করে দেবে! বাংলার চাল, বাংলার মাছ দিয়ে মাছ ভাত খাওয়া।"
সমাজমাধ্যমেও তিনি লেখেন, "মাছে ভাতে বাঙালি।মাছ ধরতে যেমন ভালোবাসি, তেমন মাছ খেতেও ভালোবাসি। আজ উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি জেতার আনন্দে পাত পেড়ে মাছ-ভাত খাওয়া উৎসব কর্মসূচি। এই রাজ্যে মানুষ এবার আরও বেশি মাছ খেতে পারবেন। কারণ মাছ উৎপাদনও বাড়বে এবং মানুষের আয় বাড়বে কাজেই ক্রয় ক্ষমতাও বাড়বে।"
তিনি আরও লেখেন, "এতদিন জনগণের টাকায় পকেট ভরিয়ে কেবলমাত্র তৃণমূলের নেতারা ভালো, দামি মাছ খেতে পারতেন। কিন্তু এখন থেকে তোলাবাজি, কাটমানি বন্ধ হওয়ায় জনগণের টাকা জনগণের কাছে ফেরত যাবে। সবাই ভালো মাছ খেতে পারবেন।"
মাছ উৎসব থেকে তাপস রায় বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যাচার করেছেন। বাঙালির মাছ-ভাত তো উনি বন্ধ করে দিয়েছেন। পর্যাপ্ত পরিমাণ যে মাছের প্রয়োজন বাংলায়, ১৫ বছরে তার ব্যবস্থা করেছেন? বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে মাছ আসে তাই বাংলার বাঙালিরা মাছ, ডিম খেতে পায়। মাছে বা ডিমে বাঙালি যেমন স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়, তেমনই রোজগার নেই, টাকা নেই পকেটে, মাছ খাবে কোথা থেকে?" তাপস আরও বলেন, "এতদিন মাছ খেত তৃণমূলের সিন্ডিকেট, তোলাবাজরা। এবার বাংলার সকলে যাতে মাছ খায়, তার ব্যবস্থা করবে বিজেপি।"

No comments:
Post a Comment