হুগলি: তৃণমূল নেতার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার। ঘটনা হুগলির গোঘাটের। রবিবার সকালে হুগলির গোঘাটের নকুণ্ডা পঞ্চায়েতের কোটা গ্রামে উদ্ধার হয় তৃণমূল নেতার রক্তাক্ত দেহ। মৃতের নাম সহদেব বাগ, বয়স ৫০ বছর। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগ, তাঁকে খুন করে তৃণমূল পার্টি অফিসের পিছনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলছে পরিবার।
মৃত সহদেব বাগ গোঘাটের নকুণ্ডার কোটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী। তাঁর স্ত্রী চায়না বাগ নকুণ্ডা পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। অভিযোগ, ভোটের ফলাফলের পর থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গতকাল রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান মেলেনি। এরপর রবিবার সকালে এলাকার মানুষ সহদেবের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মৃতদেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দেহের পাশে একটি মুগুর উদ্ধার হয়েছে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় প্রচুর মানুষ ভিড় করেন।
তৃণমূলের অভিযোগ, যে পার্টি অফিসের পিছন থেকে দেহটি উদ্ধার হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেটি বিজেপি দখল করে নিয়েছিল। এই পরিকল্পিত খুনের নেপথ্যে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
অপরদিকে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। তাদের দাবী, বিজেপি কোনওভাবেই খুনের রাজনীতি বা অশান্তিতে বিশ্বাসী নয়। এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। বিজেপির দাবী, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার বলছেন কোনও অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। বিজেপি খুনের সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নয়। পুলিশ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করবে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। খুনের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

No comments:
Post a Comment