উন্নয়নের নামে টাকা আদায়! তৃণমূল পুরপ্রধানকে ঘিরে বিক্ষোভ, মুচলেকা দিয়ে রেহাই নারায়ণের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Thursday, May 28, 2026

উন্নয়নের নামে টাকা আদায়! তৃণমূল পুরপ্রধানকে ঘিরে বিক্ষোভ, মুচলেকা দিয়ে রেহাই নারায়ণের


উত্তর ২৪ পরগনা: বস্ত্রহাটের উন্নয়ন ও দোকান পাইয়ে দেওয়ার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল লক্ষ লক্ষ টাকা 'অনুদান'। কিন্তু দোকান তো দূরের কথা, বছরের পর বছর কেটে গেলেও টাকা ফেরত মেলেনি। সেই নিয়েই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ব্যবসায়ীরা। আর টাকা ফেরতের দাবীতে পুরপ্রধান নারায়ণ চন্দ্র সাহাকে ঘেরাও করে চলল তুমুল বিক্ষোভ। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাবড়ায়। টাকা ফেরতের দাবীতে চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা। প্রায় আড়াই ঘন্টা ঘেরাও থাকার পুরপুরপ্রধান টাকা ফেরতের মুচলেকা দিলে, তবে রেহাই মেলে।  


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হাবড়ার জয়গাছি সুপারমার্কেট চত্বরে ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল একটি ভবন নির্মিত হয়েছে।ওই ভবনটিকেই পুরসভা বস্ত্রহাট নাম দিয়েছে।জয়গাছি এলাকায় রাস্তার পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে বস্ত্র ব্যবসায়ীরা বেচাকেনা করতেন, তাঁদের স্থায়ী পাকা দোকান ঘর দেওয়ার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার ওই ভবনটি নির্মাণ করেছে। আর এই বস্ত্রহাটের দোকান বণ্টন নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত।


বস্ত্রঘাটে দোকান দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পুরসভার পক্ষ থেকে ৭৪ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দু'টি ভাগে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান নেওয়া হয়েছে। ওই টাকায় বস্ত্রহাটের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। এবারে সরকার বদল হওয়ার পর বস্ত্রহাটের ওই ব্যবসায়ীরা টাকা ফেরতের দাবীতে সোচ্চার হয়েছেন।


বৃহস্পতিবার তাঁরা হাবড়ার পুরপ্রধান নারায়ণ চন্দ্র সাহার বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।ব্যবসায়ীদের দাবী, অবিলম্বে টাকা ফেরত দিতে হবে।ব্যবসায়ীরা প্রায় আড়াই ঘন্টা পুরপ্রধানকে ঘেরাও করে রাখেন। অবশেষে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে পুরপ্রধান একটি মুচলেকা লিখে দিলে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা ঘেরাও তুলে নেন। 


বিজেপি নেতা অভি দাস বলেন, 'পুরপ্রধান বস্ত্রহাটের উন্নয়নের আশ্বাস দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু উন্নয়ন হয়নি। তাই, ব্যবসায়ীদের হয়ে আমরা পুরপ্রধানের বাড়িতে টাকা ফেরত চাইতে এসেছি।'


পুরপ্রধান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, 'বস্ত্রহাটের ব্যবসায়ীদের নাম পরিবর্তনের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনও টাকা নিইনি।পুরসভার উন্নয়নের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছিল।ব্যবসায়ীরা টাকা ফেরত চেয়েছেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আমরা ব্যবসায়ীদের টাকা ফেরত দিয়ে দেব।'


এদিকে পুরপ্রধানের বাড়িতে এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এবারে পুরপ্রধানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি সময় মত পূরণ হয় কিনা, সেদিকেই তাকিয়ে ব্যবসায়ীরা।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad