কলকাতা: অস্বস্তি বাড়ল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ভবানীপুর থানায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে নতুন একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এর আগেও বিধাননগর সাইবার থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। এবার ভবানীপুর থানায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এবার অভিষেকের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন অর্ণবকান্তি দাস নামে এক ব্যক্তি। অভিযোগকারী অর্ণবকান্তি দাসের দাবী, সম্প্রীতি বিঘ্নিত হতে পারে, এমন মন্তব্য করে সমাজমাধ্যমে ঘৃণা ছড়িয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি কপিও পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। তারই ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তও পুলিশ শুরু করেছে বলে খবর।
ঘটনার সূত্রপাত, গত ২ মে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করেন। আর সেই পোস্ট ঘিরেই বিতর্ক। অভিযোগকারীর দাবী, ওই পোস্টে এমন কিছু লেখা হয়েছে, তাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় সংহতি লঙ্ঘিত হতে পারে।
শুধু তাই নয়, একজন সাংসদ হিসাবে কীভাবে এমন পোস্ট করতে পারেন তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী অর্ণবকান্তি দাস। অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ বলেও মন্তব্য তাঁর।
অভিযোগে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ভিন্ন হলে এবং তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরলে, এই ধরণের মন্তব্য রাজ্যে বসবাসকারী গুজরাতি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক হিংসার পরিবেশ তৈরি করতে পারত। ফলে এই পোস্টকে ঘিরে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগে দাবী করা হয়েছে।
এ ছাড়াও, ওই পোস্টে অভিষেক নাকি কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকেও সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ। বিশেষ করে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তথাকথিত 'ডায়মন্ড হারবার মডেল' রোখার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবী। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগকারী পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ভোট প্রচারে উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে অভিষেকের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় মোট ৫ টি ধারায় মামলা দায়ের হয়। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন প্রায় প্রতি সভা থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৭ এপ্রিল এক জনসভায় বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেকের বক্তব্য ছিল, “চার তারিখ বারোটার পরে কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা আর কার দিল্লীর বাবা কাকে বাঁচাতে আসে আমি ৪ তারিখ দেখব।"
ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই উসকানির অভিযোগ তুলে বাগুইআটির বাসিন্দা রাজীব সরকারের দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করেছিল পুলিশ। যদিও সেই এফআইআর-কে চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তীতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। যদিও উচ্চ আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িক আইনি রক্ষাকবচ পেয়ে যান, তবে সেই মামলার শুনানি কালে কলকাতা হাইকোর্টে তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে।

No comments:
Post a Comment