নিজস্ব সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: বিনা চিকিৎসায় সাপে কাটা এক শিশুর মৃত্যু। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক (বিএমওএইচ)- এর কোয়ার্টারের সামনে নিয়ে যান উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, তা নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষমেশ ঘটনাস্থলে নামাতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে পুঞ্চা ব্লকের হাতিহাড় গ্রামের একটি সাত বছরের শিশুকে বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কাটে। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। কিন্তু রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ দু-ঘন্টা হাসপাতালে ফেলে রেখেও কোনও রকম চিকিৎসা করা হয়নি বলে অভিযোগ। চিকিৎসকের চরম উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে সরব হয় মৃতের পরিবার।
শিশুটির মৃত্যুর খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সকালে দলে দলে মানুষ হাসপাতাল চত্বরে এসে জড়ো হন। উত্তেজিত জনতা প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছালে ওই মহিলা চিকিৎসককে কার্যত টানতে টানতে হাসপাতালের চত্বরে থাকা বিএমওএইচ-এর কোয়ার্টারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। এমনকি দুজনকেই নিগৃহীত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। উত্তেজিত জনতার প্রশ্ন, এত বড় ঘটনার খবর পেয়েও কেন বিএমওএইচ নিজে এসে শিশুর চিকিৎসার তদারকি করলেন না?
ঘটনার খবর পেয়েই প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পৌঁছায় পুঞ্চা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে উত্তেজিত জনতার ক্ষোভের মুখে পড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। হাসপাতাল চত্বরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে, খবর দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা এবং পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে এখনও থমথমে ও উত্তাল হয়ে রয়েছে পুঞ্চা হাসপাতাল চত্বর।

No comments:
Post a Comment