কলকাতা: রাজ্যে লাগু হয়ে গেল সিএএ। বুধবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হল সিএএ। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, 'সিএএ-র আওতায় যাঁরা নেই, তাঁরা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের সরাসরি গ্রেফতার করে বিএসএফ-র হাত তুলে দেওয়া হবে।'
উত্তরবঙ্গে থেকে ফিরেই এদিন নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে বিএসএফ-র আধিকারিকরা। শুভেন্দু বলেন, 'সীমান্তবর্তী জেলা কো-অর্ডিনেশন মিটিং করার কথা ছিল। গত কয়েক বছরে একটি মিটিং হয়নি। এটা এখন হবে। প্রয়োজনে থানা স্তরে হবে। ১৪.৫.২০২৫ তারিখে যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তাদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে। আগের সরকার শরণার্থীদের সিএএ-র বিরোধিতা করেছে। অন্য দিকে এরকম গুরুত্বপূর্ণ আইন কার্যকর করতে দেয়নি। আজ থেকে নতুন আইন কার্যকর করলাম।'
দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জর্জরিত বাংলার। কখনও প্রধানমন্ত্রী আবার কখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় ভোট প্রচারে এসে বলে গিয়েছেন কীভাবে অবৈধ অনুপ্রবেশের কারণে পাল্টে যাচ্ছে বাংলার ডেমোগ্রাফি। গত বছর ১৪.৫.২০২৫ তারিখে বিএসএফের তরফ থেকে নির্দেশিকা আসে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য।
কিন্তু প্রাক্তন রাজ্য সরকার এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সেই নির্দেশে কর্ণপাত করেননি।
বুধবার শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন, রাজ্যে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সিএএ লাগু করা হচ্ছে এবং ৭ টি শরণার্থী সম্প্রদায়কে এই নাগরিকত্বের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাকি যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী থাকবে তাদের চিহ্নিত করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
এছাড়াও বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, পূর্ব প্রতিশ্রুতি মতোই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্র ও বিএসএফ কাঁটাতারের জন্য জমি চেয়ে আসছিল। কিন্তু আগের সরকার দিচ্ছিল না। ফলে আমাদের দেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি মধ্যে পড়ছিল'। তার বক্তব্য, 'আমাদের সরকার ২ সপ্তাহের মধ্যে জমির একটি অংশ হস্তান্তর করতে প্রস্তুত। ২৭ কিলোমিটার জমি দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৪ রাজ্য জমি দিয়েছে। আমাদের রাজ্য ২২০০ কিমির মধ্যে ১৬০০ কাঁটাতার রয়েছে। ৬০০ তে কাঁটাতার নেই'।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ, 'এরমধ্যে ৫৫০ কিমি এমন রয়েছে যেখানে সরকার চাইলে জমি দিতে পারত, কিন্তু তারা তুষ্টিকরণের জন্য দেননি।'

No comments:
Post a Comment