কলকাতা: বিজেপি সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশন। আর প্রথম দিনই সরব বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে বিধানসভায় সুর চড়ালেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। পাল্টা ঘরছাড়াদের বাড়ি ফেরানোর আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, বেঁধে দেন শর্ত।
শুক্রবার অষ্টাদশ বিধানসভার অধ্যক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া ছিল। প্রত্যাশামতোই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপির বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বোস। বিষয়টি নির্বিঘ্নে হওয়ায় বিরোধীদলকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসা ও ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর কথা তুলে ধরেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।
তাঁর অভিযোগ, ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে বহু তৃণমূল কর্মী ঘর-ছাড়া রয়েছেন। বিজেপি আসার পর ভরসা আউট হয়েছে। বরং ভয় বেড়েছে। যদিও শোভনদেবের তোলা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিরোধী দলনেতা বলেন, "আমি দশমবার এলাম এই বিধানসভায়। আমার অভিজ্ঞতা আছে বিরোধী ও শাসক দলে থাকার। ১৫ বছরে ১১ মাস আসলে কি হয় সেটা জানেন নিশ্চিত। জাতীয় সঙ্গীত কী করে এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়? নির্বাচনকে গণতন্ত্রের উৎসব বলা হয়। আপনারা বলছেন ভয় আউট ভরসা ইন। আপনাদের সভাপতি বলছেন আমাদের জ্ঞান দিয়ে রাস্তায় নামতে। এদিকে আমাদের অসংখ্য মানুষ রাস্তায় ঘর ছাড়া। আজ ভয় আছে, ভরসা নেই। মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, ভয় নেই যখন বলেছেন সেটা ব্যবস্থা করুন। অগণতান্ত্রিক, উপায়ে যা হয়েছে তাতে স্বৈরাচারীর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। গণতন্ত্র ধ্বংস হলে মুশকিল।"
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে শোভনদেবের তোলা সব অভিযোগের স্পষ্ট উত্তর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীও। একইসঙ্গে তাঁর আশ্বাস, যদি সত্যি কেউ ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে সসম্মানে বাড়ি ফেরাবে বিজেপি সরকার। তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন ঘরছাড়াদের ঘরে ঢোকাতে। কেউ ঘরছাড়া আছে বলে আমার জানা নেই। আপনি ডিজিপির কাছে তালিকা দিন। কিন্তু পরিষ্কার শর্ত, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় তার নাম নেই। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই তাঁকে সসম্মানে বিজেপি বিধায়ক ও এসপি ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসবে। না হলে, অভিযোগ থাকলে জেলে যেতে হবে।"
এছাড়াও এদিন নিজের বক্তৃতায় অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আগের তৃণমূল সরকারকে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দলনেতাকে ১১ মাস বিধানসভার বাইরে রেখে আমরা অধিবেশন চালাতে চাই না। কোনও সদস্যকে মারধর করে হাসপাতালে পাঠিয়ে বিধানসভা চালানোর সংস্কৃতিতে আমরা বিশ্বাসী নই।”
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী, নবনিযুক্ত অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেন, যাতে বিরোধীদের বক্তব্য রাখার জন্য যথাযোগ্য মর্যাদা ও পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়। বিধানসভার সমস্ত কার্যাবলি সাধারণ মানুষের জন্য লাইভ সম্প্রচার করা হবে বলেও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

No comments:
Post a Comment