নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর এই প্রথমবার ঐতিহাসিক বেলুড় মঠ পরিদর্শনে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। চলতি মাসের ৯ তারিখ মুখ্যমন্ত্রী পদের শপথ নেওয়ার পর, আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বিশ্ব সদর দফতরে পৌঁছান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে মঠ প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ভক্ত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে নতুন সফর শুরু করার আগে আধ্যাত্মিক আশীর্বাদ গ্রহণ করাই ছিল তাঁর এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য।
বেলুড় মঠে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই মূল শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরে যান। সেখানে তিনি পরমপুরুষ শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং পুজো দেন। এর পর তিনি স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত কক্ষে যান এবং সেখানে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রণাম জানান। সেখান থেকে ক্রমান্বয়ে তিনি স্বামী ব্রহ্মানন্দ মন্দির ও শ্রী শ্রী মা সারদা দেবীর মন্দিরে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও প্রণাম সম্পন্ন করেন। মঠের শান্ত ও পবিত্র পরিমণ্ডলে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর, মুখ্যমন্ত্রী রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বর্তমান অধ্যক্ষ তথা প্রেসিডেন্ট মহারাজের সঙ্গে এক সৌজন্যমূলক সাক্ষাতকার করেন। মঠের প্রবীণ সন্ন্যাসীরা মুখ্যমন্ত্রীকে উত্তরীয় পরিয়ে এবং মঠের পবিত্র স্মারক ও প্রসাদ দিয়ে স্বাগত জানান। স্বামী গৌতমানন্দ মহারাজ রাজ্যের সামগ্রিক শান্তি, জনকল্যাণ এবং সমৃদ্ধি কামনা করে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে আশীর্বাদ করেন।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও রামকৃষ্ণ মিশনের মানবসেবার দর্শন সর্বদা সমাজকে পথ দেখায়। বাংলার সাড়ে দশ কোটি মানুষের সেবা করার যে নতুন দায়িত্ব তিনি কাঁধে নিয়েছেন, তা সফলভাবে পালন করতে এবং রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তিনি এই পুণ্যভূমিতে আশীর্বাদ নিতে এসেছেন। মঠের সন্ন্যাসীদের প্রতি এবং তাঁদের নিঃস্বার্থ সমাজসেবামূলক কাজের প্রতি তিনি তাঁর গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আধ্যাত্মিক এই সফর শেষ করেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হাওড়ায় পূর্বনির্ধারিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে রওনা হন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন সরকারের কাজের শুরুতেই বেলুড় মঠের মতো পবিত্র স্থান পরিদর্শন এবং তার পরেই সরাসরি প্রশাসনিক স্তরে বৈঠক করার এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি যেমন একদিকে রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধাকে তুলে ধরে, তেমনই অন্যদিকে রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজে গতি আনার বিষয়ে তাঁর প্রশাসনিক তৎপরতাকেও স্পষ্ট করে।

No comments:
Post a Comment