কলকাতা: মায়াপুর সফরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারী। বৃহস্পতিবার তিনি যাচ্ছেন মায়াপুরে। এদিন সকাল সাড়ে ৯ টা নাগাদ চিনার পার্কের বাড়ি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর কথা শুভেন্দুর৷ তারপরে বেলা ১০টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে রওনা হবেন মায়াপুরের উদ্দেশে৷ সূত্রের খবর, মায়াপুরে আনুমানিক ২ ঘন্টা থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তারপরে মায়াপুর থেকে আকাশ পথে হেলিকপ্টারে করে ডুমুরজোলা স্টেডিয়ামে নামবেন শুভেন্দু৷ তারপরে, সেখান থেকেই যাবেন নবান্ন৷ সন্ধ্যায় কাজ শেষে নবান্ন থেকে বের হবেন চিনার পার্কের উদ্দেশ্যে ।
প্রশাসন ও ইসকন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ঠিক ১১টা নাগাদ আকাশপথে মায়াপুরে এসে পৌঁছাবেন মুখ্যমন্ত্রী। হেলিপ্যাডে নামার পর তাঁকে ইসকন কর্তৃপক্ষের তরফে মহাসমাদরে স্বাগত জানানো হবে। এরপর সেখান থেকে তাঁর মূল মন্দিরে বিগ্রহ দর্শন, বিশেষ পুজো ও যজ্ঞ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
এর পাশাপাশি, ইসকনের ঐতিহ্যবাহী গোশালায় গিয়ে গো-সেবাও করবেন তিনি। জানা গিয়েছে, এই গো-সেবার উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী নিজ হাতে গো-মাতাকে খাওয়ানোর জন্য এক বিশেষ ধরণের লাড্ডু সঙ্গে নিয়ে আসছেন। তবে গো-সেবার অনুষ্ঠানটি নবনির্মিত চন্দ্রোদয় মন্দির দর্শনের আগে নাকি পরে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই হাইপ্রোফাইল সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে সমগ্র মায়াপুর ইসকন চত্বর। রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দফায় দফায় নিরাপত্তার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আগমন বার্তা স্বীকার করে নিয়েছেন ইসকনের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রমেশ দাস।
তিনি জানান, "মুখ্যমন্ত্রী মন্দির দর্শনে আসছেন এবং একইসঙ্গে তিনি এখানে বিশেষ পুজোও দেবেন।" মঙ্গলবার কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকের পর, ঝটিকা সফরে মুখ্যমন্ত্রীর এই আধ্যাত্মিক মায়াপুর যাত্রা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
উল্লেখ্য, বুধবার নবান্ন থেকে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে তিনি জানান, ‘‘ইতিমধ্যেই আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টি সংকল্প পত্রে আমরা জানিয়েছিলাম, সরকার গঠনের পরেই আমরা অন্নপূর্ণা যোজনার সূচনা করব এবং উপযুক্ত মহিলারা ১৫০০ এর পরিবর্তে ৩০০০ টাকা করে পাবেন।’’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন ধরে চলবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের এই আবেদন প্রক্রিয়া৷ অনলাইন তো বটেই, অফলাইনেও করা যাবে প্রকল্পের জন্য আবেদন৷ এছাড়াও, যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বাড়ি বাড়িও যাবেন আধিকারিকেরা৷ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আশ্বাস, ‘‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যোজনার কর্মসূচি ততদিন চালু থাকবে যতক্ষণ না অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল আপ বা এনরোলমেন্ট কমপ্লিট হচ্ছে৷’’
অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি, বুধবার বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে লেখেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষায় আরও নিবিড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল বর্তমান রাজ্য সরকার।'


No comments:
Post a Comment