নিজস্ব সংবাদদাতা, দাসপুর: তোলাবাজি সম্পত্তি দখল সহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে গ্ৰেফতার দাসপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মমতা ভূঁইয়ার ছেলে কুমারেশ ভূঁইয়া। তাঁকে গ্রেফতার করে দাসপুর থানার পুলিশ। সোমবার দাসপুর গ্রামীন হাসপাতালে মেডিকেল টেস্ট করিয়ে ধৃতকে মেদিনীপুর আদালতের পেশ করে দাসপুর পুলিশের বিশেষ টিম।
দাসপুর এক পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ কুমারেশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ থাকায় এস সি এসটি আইনে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। এসসি ও এসটি অত্যাচার প্রতিরোধ আইন, ১৯৮৯ এর অধীনে ধারা ৩(১)(আর) এবং ধারা ৩(১)(এস) ধারার অধীনে মামলা প্রাক্তন বিধায়কের ছেলের বিরুদ্ধে। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও তফসিলি জাতি (এসসি) বা তফসিলি উপজাতি (এসটি)-ভুক্ত ব্যক্তিকে অপমান, ভয় দেখানো বা হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে, জনসমক্ষে অপদস্থ করে, তাহলে এই ধারা প্রযোজ্য হতে পারে।
তদন্ত আধিকারিকদের দাবী, অপমান বা ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য থাকতে হবে। ঘটনাটি জনসমক্ষে বা জনসমক্ষে দৃশ্যমান স্থানে হতে হবে। ভুক্তভোগী এসসি বা এসটি সম্প্রদায়ের সদস্য হতে হবে। ধারা ৩(১)(এস)- যদি কেউ এসসি বা এসটি সম্প্রদায়ের কাউকে তার জাতিগত পরিচয় উল্লেখ করে অপমানজনকভাবে ডাকে বা গালিগালাজ করে, এবং তা জনসমক্ষে ঘটে, তাহলে এই ধারা প্রযোজ্য হতে পারে, বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে রবিবার রাতে অন্ডালের পড়াশকোল এলাকা থেকে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তৃণমূলের বুথ সভাপতি সহ আরও এক তৃণমূল নেতাকে। স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরেই অন্ডাল এবং সংলগ্ন খনি অঞ্চলে সিন্ডিকেট চালানো এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল রামজীবন লোহার ও মুন্না সাউ এর বিরুদ্ধে।
সূত্র মারফত জানা যায়, এই রামজীবন লোহার বহুলা পঞ্চায়েতে তৃণমূলের উপপ্রধান বীর বাহাদুর সিং-এর ডান হাত বলে পরিচিত ছিল। অভিযোগ, এলাকার যেকোনও কোলিয়ারির কয়লা সিন্ডিকেট থেকে ও ডিওর কয়লা ব্যবসায়ীদের থেকে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের তোলা আদায় করত। টাকা না দিলে সেখানে কাজ করতে দেওয়া হতো না। কার নির্দেশে এরা এভাবে তোলা আদায় করত তার তদন্ত করছে পুলিশ ।
দিনের পর দিন এই জুলুমবাজি সহ্য করার পর, অবশেষে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তৎপর হয় এবং গতকাল রাতে অন্ডাল থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই তৃণমূলের বুথ সভাপতি রামজীবন লোহার ও মুন্না সাউকে গ্রেফতার করে।

No comments:
Post a Comment