নীরব ঘাতক; ফ্যাটি লিভার! শিকার প্রতি তিনজনে এক - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, May 15, 2026

নীরব ঘাতক; ফ্যাটি লিভার! শিকার প্রতি তিনজনে এক


লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১৫ মে ২০২৫: ভারত বর্তমানে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটের দ্বারপ্রান্তে। তবে, এবারের হুমকি কোনও সংক্রামক মহামারী নয় বরং আমাদের পরিবর্তিত জীবনযাত্রা থেকে উদ্ভূত একটি রোগ; ফ্যাটি লিভার। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্ক্রিনের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানো এই রোগটিকে এক নীরব ঘাতকে পরিণত করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, শুধু বয়স্করাই নন, বিপুল সংখ্যক শিশু এবং তরুণ-তরুণীও এখন এতে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুতর বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান: প্রতি ৩ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ১ জন এই রোগে ভুগছেন

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার সাম্প্রতিক তথ্য উদ্বেগজনক। প্রতিবেদন অনুসারে, ভারতের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ শতাংশ ফ্যাটি লিভারে ভুগছেন। এর অর্থ হল, দেশের প্রতি তৃতীয় নাগরিক এই গুরুতর সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এই রোগটি কোনও বড় লক্ষণ ছাড়াই শরীরকে ক্রমাগত ক্ষয় করতে থাকে, যার ফলে সময়মতো এটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।


স্থূলকায় শিশুদের ঝুঁকি ৬০% বেশি

ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে দুঃখজনক দিকটি হল শিশুদের মধ্যে এর ক্রমবর্ধমান প্রকোপ। আইসিএমআর-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ শিশু ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংখ্যাটি ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, বিশেষ করে স্থূলকায় শিশুদের মধ্যে। জাঙ্ক ফুডের প্রতি ক্রমবর্ধমান আসক্তি এবং খেলার মাঠের অভাব শিশুদের লিভারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে, যার ফলে অল্প বয়সেই বিপাকীয় রোগ দেখা দিচ্ছে।


দিল্লীর পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ: জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশি এতে আক্রান্ত

দেশের রাজধানী দিল্লীর পরিস্থিতি আরও গুরুতর। ইনস্টিটিউট অফ লিভার অ্যান্ড বিলিয়ারি সায়েন্সেস (আইএলবিএস) দিল্লীর ১১টি জেলার ৬,০০০ জনেরও বেশি মানুষের ওপর একটি বিশদ সমীক্ষা চালিয়েছে। এই গবেষণার ফলাফল ছিল চাঞ্চল্যকর—১৮ বছরের বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ৫০ থেকে ৫৬ শতাংশের ফ্যাটি লিভারের লক্ষণ পাওয়া গেছে। এর অর্থ হল, দিল্লীর অর্ধেকেরও বেশি মানুষের লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমেছে।


বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা আবশ্যক

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, সময়মতো খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আনলে ভবিষ্যতে লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারের প্রকোপ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যেতে পারে। "নীরব ঘাতক"-এ পরিণত হওয়া এই রোগটি প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিনের ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং স্ক্রিন টাইম কমানো অপরিহার্য। চিকিৎসকরা অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট এবং আল্ট্রাসাউন্ড করানোর পরামর্শ দেন, যাতে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad