ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৫ মে, ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর চীনা সমকক্ষ শি জিনপিং বৃহস্পতিবার ইরান যুদ্ধ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য মতপার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। ট্রাম্প এটিকে এযাবৎকালের বৃহত্তম শীর্ষ সম্মেলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর প্রথম বৈঠকে তিনি বলেন, তিনি তাঁর সঙ্গে একটি ‘চমৎকার আলোচনার’ জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
বেইজিংয়ের গ্রেট হল অফ দ্য পিপল-এ তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, “অনেকে বলছেন এটি সম্ভবত এযাবৎকালের বৃহত্তম শীর্ষ সম্মেলন।” নয় বছরের মধ্যে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম চীন সফর। এর আগে ট্রাম্প নিজে তাঁর প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে চীন সফর করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, “যখনই কোনও অসুবিধা দেখা দিয়েছে, আমরা তার সমাধান করেছি।” তিন দিনের সফরে চীনে পৌঁছানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “একসাথে আমাদের ভবিষ্যৎ চমৎকার হবে।”
ট্রাম্প বলেছেন, “শুরু থেকেই আমাদের নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক গভীর অনুভূতি রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন তাঁর সংবাদপত্রে কনফুসিয়াসের বাণী প্রকাশ করেছিলেন এবং আজ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে খোদিত মূর্তিটি গর্বের সাথে প্রাচীন চীনা ঋষিদের বাণী চিত্রিত করে।”
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “আমেরিকান এবং চীনা জনগণের মধ্যে সম্পর্কের সূচনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে। চীনে নিযুক্ত প্রথম মার্কিন কনসাল স্যামুয়েল শ, ১৭৮৪ সালে এই উপকূলে পৌঁছানো প্রথম আমেরিকান বাণিজ্যিক জাহাজে এসেছিলেন। আড়াই শতাব্দী পরে, সেই প্রথম সম্পর্কটি বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কে পরিণত হয়েছে।”
চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার মতে, ট্রাম্প শি জিনপিংকে একজন মহান নেতা বলে অভিহিত করেছেন। দুই নেতার মধ্যে প্রথম বৈঠকটি দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলে। শি জিনপিং বলেছেন যে, দুই দেশের অংশীদার হওয়া উচিৎ, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তিনি বলেছেন যে, উভয় দেশেরই একে অপরের সাফল্য ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখা উচিৎ এবং প্রধান শক্তিগুলোর মধ্যে উন্নততর সম্পর্কের জন্য সঠিক পথ খুঁজে বের করা উচিত।
শি জিনপিং ট্রাম্পকে বলেছেন যে, তাইওয়ান সমস্যাটি সঠিকভাবে সমাধান করা হলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকবে। তিনি আরও বলেন যে, যদি তা না করা হয়, তবে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত এমনকি সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে, যা পুরো সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করবে।
বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি বিশ্বজুড়ে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। দুই নেতা তাঁদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আস্থার কথা স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বের আশা প্রকাশ করেন।


No comments:
Post a Comment