কলকাতা: ‘পুতনা-হিড়িম্বা, বকাসুর-অঘাসুর যত আছে সব বধ হবে', শনিবার সকালে এভাবেই সুর চড়ালেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এদিন ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ সেরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলকে এক হাত নিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দুর্নীতি দমনেও কড়া বার্তা শোনা যায় দিলীপের গলায়।
আরজি কর কাণ্ডের ফাইল পুনরায় খোলা ও এই ইস্যুতে তিন আইপিএসকে সাসপেন্ড প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, "যে ঘটনা ঘটেছে এত বেদনাদায়ক। আর সেটাকে যেভাবে চেপে দেওয়া হয়েছে, বাংলার প্রত্যেকটি মানুষ ব্যথিত। লক্ষ লক্ষ মানুষ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন মোমবাতি হাতে। কিন্তু তাও সেই পরিবার ন্যায় পায়নি। মানুষ চাইছিলেন সত্য সামনে আসুক। দোষীরা সাজা পাক। তারই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।"
ভোট পরবর্তী হিংসা খতিয়ে দেখতে তৃণমূলের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম প্রসঙ্গে তাঁর খোঁচা, "একুশ সালের পর যদি শুরু হত, তাহলে ওদের এত বদনাম হতে হতো না। এতো মানুষকে ঘরছাড়া হতে হত না। কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বা প্রাণহানি হত না। তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়েছে আজকে। তাঁদের নেতা বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলছেন শত শত লোক ঘরছাড়া।" তিনি বলেন, আমরা জানি না কয়টা লোক ঘরছাড়া, পুলিশে ক'টা রিপোর্ট হয়েছে। একুশের পর আমরা সাড়ে ১২ হাজার কেস করেছিলাম, সিবিআই তদন্তও চলছে। তখনও মিথ্যা বলেছেন, এখনও মিথ্যা বলছেন।"
দিলীপ ঘোষ বলেন, "আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তো বলেছেন, যে কয়জন লোক ঘরছাড়া হয়েছেন তার তালিকা নিয়ে আসতে, আমরা সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে দেব। কিন্তু একুশের পর হিংসার কেস যেন তাঁর নামে না থাকে, তাহলে তাঁকে জেলে হবে।" তাঁর কটাক্ষ, "বেশিরভাগ তো দাগী আসামি, ক্রিমিনাল। আসবে কোন মুখে! কেউ বাঁচবে না, কেউ জেলে বাইরে থাকবে না।"
চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ শুরু প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, "আমরা কথা দিয়েছিলাম করে দেখিয়ে দিয়েছি। এক সপ্তাহ হয়নি সরকারের বয়স।" তাঁর হুঁশিয়ারি, "ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যেমন ছয়দিনের মধ্যে পুতনা বধ করেছিলেন, পুতনা-হিড়িম্বা, বকাসুর-অঘাসুর যত আছে সব বধ হবে। কাউকে ছাড়ব না আমরা। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যে গতিতে কাজ করছেন, বিরোধীরা বুঝতেই পারছে না কোথায় ঘর সামলাবে, কি করবে! বাংলার মানুষ খুব খুশি, আশীর্বাদ করছেন।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "হবেই তো। এত বড় দুর্নীতি-ঘোটালা, যেটা সাধারণ মানুষ বলতেন। তার তথ্য জোগাড় করছি আমরা। যেমন-যেমন আসবে, সবার নামে কেস অফের সবাইকে প্যারেড করাব। সবে তো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্যারেড শুরু করেছেন। তিনি যে কালো কোট পরেছেন, সেটা পরার অধিকার আছে কিনা সেটাও প্রশ্ন উঠেছে। সেজন্য বাকি জীবনটা কোর্টে আপনাদের প্যারেড করেই কাটাতে হবে। পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে।"

No comments:
Post a Comment