বিনোদন ডেস্ক, ০৮ মে ২০২৬: পরিচালক হিসেবে যথেষ্ট সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। এরপর রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন। কিন্তু এই ময়দানে যে একেবারেই ফুল বিছিয়ে নেই, তা হারে হারে বুঝতে পারলেন রাজ চক্রবর্তী। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার ঘোষণা পরিচালকের। ভোটের ফল ঘোষণার তিন দিনের মাথায় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা রাজ চক্রবর্তীর।
বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে রাজনীতি ছাড়ার কথা জানান রাজ। তিনি তাঁর পোস্টে লেখেন, "জীবনে যখনই কোনও দায়িত্ব পেয়েছি, নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে পালন করেছি। চেষ্টা করেছি নিজের সবটুকু দেওয়ার। একজন পরিচালক হিসেবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে সব সময় আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কখনও জিতেছি, কখনও হেরেছি।"
এরপরে তিনি জানান, তাঁর রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার কথা। পরিচালক লেখেন, "২০২১-এ আমার রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ। মানুষ আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন কাজ করার। পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে সেভাবেই বিধায়কের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করে গেছি। সে অধ্যায় শেষ হল ২০২৬-এ। সঙ্গে শেষ হল আমার রাজনৈতিক জীবনের পথচলা।"
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে এবারে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিজেপি। নতুন সরকারের শপথ গ্ৰহণ ৯ মে।
নতুন গঠন হতে যাওয়া নতুন সরকারকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ। তিনি লেখেন, বাংলার মানুষের মতামতে বাংলায় নতুন সরকার এসেছে। আগামী ৯ই মে, ২০২৬, তারা শপথ নেবেন। তাদের জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা। আশা করব, আপনাদের হাত ধরে পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাবে উন্নতির পথে। মানুষের সমস্ত সমস্যার সমাধান হবে।' রাজ্যবাসীকে ভালো-সুস্থ থাকারও বার্তা দিয়েছেন রাজ। পরিচালক লেখেন, সবাই ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।"
উল্লেখ্য, গত ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার দিন ব্যারাকপুরের গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় এক তিক্ত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় রাজকে। একসময় যাঁরা তাঁর গলায় ফুলের মালা পরানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, অভিযোগ তাঁদেরই একাংশ এদিন 'চোর-চোর' স্লোগান তুলে রাজের দিকে কাদা, গোবর, চটি ছোড়েন। সেই সময়ে নিজেকে সংযত রাখলেও, এই অপমান যে তাঁর মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে, তা রাজের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে স্পষ্ট। প্রসঙ্গত, ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছেন তিনি।


No comments:
Post a Comment