ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৭ মে ২০২৬: পকসো মামলায় গ্ৰেফতার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর ছেলে। মন্ত্রী নিজেই ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় তেলেঙ্গানা পুলিশ কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারের ছেলে সাই ভগীরথকে একটি পকসো মামলায় গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে একটি লুকআউট সার্কুলার জারির কয়েক ঘন্টা পরেই এই গ্রেফতার। ভগীরথের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এক ১৭ বছর বয়সী কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, ২০২৫ সালের জুনের শুরুতে পারস্পরিক বন্ধুদের মাধ্যমে তাদের দুজনের পরিচয় হয়েছিল।
সাইবারাবাদ পুলিশ কমিশনার ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, "শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে একটি তল্লাশি অভিযানের পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে পেটবশিরবাদ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।" কমিশনার আরও জানান যে, ভগীরথকে এখন ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে এবং হায়দ্রাবাদের একজন স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে।
এরই মাঝে, শনিবার বান্দি সঞ্জয় কুমার একটি বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করে লিখেছেন, "সত্যমেব জয়তে। আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে, আজ আমাদের আইনজীবীদের মাধ্যমে আমার ছেলে, বান্দি ভগীরথকে তদন্তের জন্য তেলেঙ্গানা পুলিশের সামনে হাজির করা হয়েছে। আমি আগেও বলেছি, সে আমার নিজের ছেলেই হোক বা কোনও সাধারণ নাগরিক, আইনের চোখে সবাই সমান। আমার ছেলে বরাবরই বলে আসছে যে সে কোনও ভুল করেনি। যখনই অভিযোগ দায়ের হয়েছিল, তার পরেই আমরা ভেবেছিলাম ছেলেকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বলব।'
সঞ্জয় বান্দি দাবী করেছেন, প্রথমে তাঁর আইনজীবীরা ভেবেছিলেন এই মামলা হয়তো আদালতে খারিজ হয়ে যাবে এবং তাঁর ছেলে জামিন পেয়ে যাবেন। সেই কারণেই তাঁর ছেলের আত্মসমর্পণে দেরি হয়েছে। কিন্তু তা না হওয়ায় বিষয়টি ঝুলিয়ে না রেখে তিনি নিজেই ছেলেকে নিয়ে এসে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে দাবী করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, "আইন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর এবং আমাদের কাছে থাকা প্রমাণাদি উপস্থাপন করার পর আমাদের জানানো হয়েছিল যে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি যথাযথভাবে সমাধান করা হবে। তাছাড়া, আমি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা এবং বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান করার নীতিতে বিশ্বাসী। যদিও আদালতের কার্যক্রম চলছে এবং আগামী সপ্তাহে একটি আদেশ আসবে বলে মনে হচ্ছে। আমাদের আইনি দলের পরামর্শ সত্ত্বেও, আমি অনুভব করেছি যে, তদন্তে সহযোগিতা করতে আমাদের দ্বিধা করা উচিৎ নয়। বিচার ব্যবস্থার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। ন্যায়বিচার পেতে দেরি হতে পারে, কিন্তু ন্যায়বিচার অস্বীকার করা যায় না।"
৮ই মে ভগীরথের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগে মেয়েটির মা দাবী করেন যে, ভগীরথ তাঁর মেয়েকে বারবার যৌন নির্যাতন করেছেন এবং মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেল করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মেয়েটিকে একঘরে করে রেখেছিলেন।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ভগীরথের বিরুদ্ধে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (পকসো)-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা নথিভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে নারীর সম্ভ্রম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, যৌন হয়রানি এবং অন্যান্য অপরাধ। পরে, মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করার পর, পুলিশ শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (পকসো)-এর অধীনে গুরুতর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ যুক্ত করে।
শুক্রবার রাতে তেলেঙ্গানা হাইকোর্ট ভগীরথকে গ্রেফতার থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাঁর আইনজীবী এস. নিরঞ্জন রেড্ডি যুক্তি দিয়েছিলেন যে, পুলিশকে তাঁকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেওয়া হোক এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তাঁর ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হোক। তবে, দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলা শুনানির শেষে বিচারপতি টি. মাধবী দেবী বলেন, “আমি ভুক্তভোগীর জবানবন্দি পড়েছি, যদিও বিস্তারিতভাবে নয়, সংক্ষেপে এবং এই পর্যায়ে আমি কোনও অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিতে আগ্রহী নই।”


No comments:
Post a Comment