ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৯ মে ২০২৬: ভারত থেকে আম আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে জাপান। চলতি বছরের শুরুতে পরিদর্শনের সময় জাপানি আধিকারিকরা ভারতীয় আম শোধনাগারগুলিতে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ করা হয়। এই পদক্ষেপটি গ্রীষ্মের গুরুত্বপূর্ণ আমের মরসুমে রপ্তানি ব্যাহত করেছে এবং ভারতের সেরা জাত, যেমন আলফনসো, কেশর, ল্যাংড়া এবং বাণপল্লীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এই স্থগিতাদেশটি প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম এমন নিষেধাজ্ঞা। জাপান এর আগে ফলের মাছির হুমকির কারণে ভারতীয় আমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল এবং ভারত তার প্রোটোকল মজবুত করার পর ২০০৬ সালে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এখন, জাপানি আধিকারিকরা আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে ভারতীয় আমের চালান দেশটির কঠোর মানদণ্ড মেনে চলছে কি না। জাপান ফলের মাছির মতো আক্রমণাত্মক কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে, যা দেশের কৃষির জন্য একটি বড় হুমকি হিসাবে বিবেচিত হয়।
প্রতি বছর আম রপ্তানির মরসুমের আগে, জাপান ভারতের ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট (ভিএইচটি) কেন্দ্রগুলো নিরীক্ষণ করতে কোয়ারেন্টাইন কর্তাদের পাঠায়। এই কেন্দ্রগুলো রপ্তানির আগে আম জীবাণুমুক্ত করার দায়িত্বে থাকে। এই বছরের মার্চ মাসে উত্তর প্রদেশের রহমানপুরের ভিএইচটি কেন্দ্রে নিরীক্ষণ করা হয়। প্রতিবেদন অনুসারে, জাপানি আধিকারিকরা কেন্দ্রটিতে ধোঁয়া দিয়ে জীবাণুমুক্ত করার পদ্ধতিতে ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন।
উত্তর প্রদেশের একজন রপ্তানিকারক আকরাম বেগ ‘দ্য প্রিন্ট’-কে বলেন, “যদিও জাপানের বাজার ততটা বড় নয়, তবুও এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বছর দেশীয় বাজারও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে এবং আমরা ক্ষতির শিকার হচ্ছি। কীভাবে প্রতিটি কারখানার আম বাতিল করা যেতে পারে?” বেগ প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, “মনে হচ্ছে যেন পরিদর্শক দলটি কারখানাগুলোর প্রকৃত কর্মক্ষমতা বিবেচনা না করেই, সেগুলোকে অকৃতকার্য করার একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছিল।”
যদিও ভারত সরকার এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি, এস. ইনশাম আলী ‘দ্য প্রিন্ট’-কে বলেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, “আমাদের কোনও সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দুই দশক ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার পর ২০০৬ সালে ভারত জাপানে আম রপ্তানি পুনরায় শুরু করে এবং তখন থেকে এই বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছিল। কিন্তু এখন, প্রায় ২০ বছর পর, জাপান এই মরসুমে ভারতীয় আম আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে, যা রপ্তানিকারক ও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

No comments:
Post a Comment