ন্যাশনাল ডেস্ক, ১০ মে ২০২৬: আসামের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম চূড়ান্ত করল বিজেপি। ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সর্বসম্মতিক্রমে বিজেপি ও এনডিএ বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আগামী ১২ই মে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন। রবিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে অসমের বিধানসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ-র পরিষদীয় দলের নেতা হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। তার পরেই হিমন্ত যান লোকভবনে। রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্যের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের আর্জি জানান। এবারে আগামী মঙ্গলবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন হিমন্ত।
বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচনের জন্য বিজেপি প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়াব সিং সাইনিকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছিল। আসাম বিজেপি বিধায়ক দলের একটি সভা আহ্বান করা হয়, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে হিমন্ত বিশ্বশর্মা নেতা নির্বাচিত হন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গত ৬ই মে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি ভারপ্রাপ্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন নতুন সরকার গঠনের ফলে তিনি টানা দ্বিতীয়বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন।
১২৬ সদস্যের আসাম বিধানসভায় ৮২টি আসন জিতে বিজেপি তার শক্তির প্রমাণ দিয়েছে, যেখানে তার মিত্র দল অসম গণ পরিষদ (এজিপি) এবং বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) প্রত্যেকে ১০টি করে আসন পেয়েছে। মোট ১০২টি আসন পেয়ে জোটটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার রাজনৈতিক যাত্রা-
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ১৯৯০-এর দশকে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আসু)-এর একজন সক্রিয় নেতা হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন এবং পরে কংগ্রেসের সঙ্গে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ২০০১ সালে জালুকবাড়ি নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথমবার বিধায়ক হওয়ার পর, তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লেফটেন্যান্ট এবং সরকারের 'সমস্যা সমাধানকারী' হিসেবে আবির্ভূত হন। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলে তিনি তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার প্রমাণ দেন। তবে, ২০১৫ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বের, বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে তিনি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে নেডা (উত্তর-পূর্ব গণতান্ত্রিক জোট)-এর আহ্বায়ক নিযুক্ত করা হয়। এরপর তিনি আসাম-সহ মণিপুর, ত্রিপুরা, মেঘালয়ের মতো রাজ্যগুলিতে বিজেপি ও তার মিত্রদের জন্য সরকার গঠনে চাণক্যের মতো ভূমিকা পালন করেন। ২০১৬ সালে আসামে বিজেপির প্রথম সরকার গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকারের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মন্ত্রী ছিলেন। অবশেষে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর, দল তাঁর রাজনৈতিক মর্যাদাকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁকে আসামের ১৫তম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করে।

No comments:
Post a Comment