কলকাতা: পুরসভার স্ক্যানারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি। এই বিষয়ে কিছুই জানেন না তিনি, জানালেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, আলোচনা না করেই নোটিস, এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবী মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্যুতে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। যদিও বিল্ডিং বিভাগ কী সিদ্ধান্ত নেবে, কোন বেআইনি বাড়ি ভাঙবে, সেটা মেয়র স্থির করেন না। পুরসভার কমিশনার পদাধিকার বলে এটা করতে পারেন।"
তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মেয়রের সম্মতি নিয়ে ধরণের নোটিস জারি করা হয় না। তৃণমূলের এক সংবাদ সম্মেলনে ফিরহাদ হাকিম বলেন, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকাটি যাচাই করা উচিৎ। তিনি আরও বলেন, মেয়র হলেন নীতি নির্ধারক আর পৌর কমিশনার প্রশাসনিক ও বাস্তবায়নমূলক সিদ্ধান্ত নেন।
ফিরহাদ হাকিম বলেছেন যে, এ ধরণের বিষয়ে মেয়রের কোনও বিশেষ অধিকার বা সরাসরি কর্তৃত্ব নেই। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নোটিস জারি করা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব পৌর কমিশনারের এখতিয়ারভুক্ত।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক সম্পত্তির খতিয়ান চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে পুরনিগম। অনুমোদন ও নির্মাণের সঙ্গতি যাচাইয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছে পুরনিগমের তরফে। অভিষেকের কোম্পানি 'লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস'এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত যে ক'টি সম্পত্তি রয়েছে, তার নথি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯ নম্বর বোরো অফিস থেকে সব কটি সম্পত্তিতে নোটিস গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরিশ মুখার্জি রোডের একটি বাড়ি। এছাড়াও কালীঘাট মোড়ের একটি বহুতল রয়েছে। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, বিল্ডিং বিভাগের আইনের ৪০০(১) ধারায় এই নোটিসটি দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে যে অতিরিক্ত বেআইনি নির্মাণ করা হয়েছে, তা ৭ দিনের মধ্যে ভাঙতে হবে; অথবা কেন তা ভাঙা হবে না, সেই বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে।
উল্লেখ্য, শনিবার ফলতার নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী তোপ দেগেছিলেন, “ভাইপো বাবু আপনার প্রপার্টির লিস্টটা আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ২৪ টি প্রপার্টি কলকাতায়, আমতলায় প্রাসাদের মতো অফিস।” তারপরই এই নোটিস।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দুর্নীতি ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে নেমেছে কলকাতা পুরসভা। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ১৭টি সম্পত্তিকে চিহ্নিত করে সেগুলি ভেঙে ফেলার নোটিস ধরাল পুর কর্তৃপক্ষ। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৭দিনের মধ্যে ওই সমস্ত ভবনের অননুমোদিত বা বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলতে হবে, অন্যথায় পুরসভা নিজে বুলডোজার চালিয়ে সেই নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেবে এবং তার খরচ উসুল করা হবে মালিকদের পকেট থেকেই। কলকাতা পুরসভার এই নজিরবিহীন পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।
এই বিষয় নিয়েই এদিন মুখ খুললেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হল রাজ্য-রাজনীতিতে।

No comments:
Post a Comment