কলকাতা: এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সাভারকর জয়ন্তী' পালনের উদ্যোগ। আগামী ২৮ মে হিন্দুত্ববাদী তাত্ত্বিক বিনায়ক দামোদর সাভারকরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়েছে এবিভিপি-র যাদবপুর শাখা। সোমবার উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে এবিভিপি জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। সেখানে সাভারকরের জীবন, আদর্শ এবং জাতি ও সমাজের প্রতি তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হবে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন এবিভিপি-র যাদবপুর শাখার সভাপতি নিখিল দাস এবং সম্পাদক সঞ্জীবন দীপ বর্মন।
গবেষক ছাত্র তথা এবিভিপি নেতা নিখিল দাসের কথায়, 'আমরা জাতীয়তাবাদ ও হিন্দুত্ববাদের অন্যতম প্রতীক সাভারকরের জন্মবার্ষিকী পালন করতে চাই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মও জাতীয়তাবাদের চেতনা থেকে। তাই এই ক্যাম্পাসে তাঁর জীবন ও ভাবনাকে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।' তিনি আরও বলেন, 'বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমি। এই বাংলায় সাভারকরকে যথাযথ সম্মান জানানো প্রয়োজন।'
উল্লেখ্য, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ই ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা পরবর্তীকালে বিজেপিতে রূপান্তরিত হয়। তবে সাভারকরকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। সমালোচকদের অভিযোগ, আন্দামানের সেলুলার জেলে বন্দি থাকার সময় তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে একাধিকবার ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন করেছিলেন। সম্প্রতি পুনের একটি আদালতে চলা মানহানির মামলায় সাভারকরের প্রপৌত্র সত্যকি সাভারকরও জানান, তিনি ব্রিটিশ প্রশাসনের কাছে পাঁচটি ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন করেছিলেন। যদিও এবিভিপি সেই অভিযোগ মানতে নারাজ।
নিখিল দাসের দাবী, 'বামপন্থী ও কংগ্রেসী বলয় দীর্ঘদিন ধরে সাভারকরের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছে। তাঁর জাতীয়তাবাদী অবদান মানুষকে জানানো প্রয়োজন।'
এবিভিপি জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃংখলভাবে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি সংগঠনের নেতারা এও জানিয়েছেন, ২৮ শে মে যেহতু ঈদ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার সম্ভাবনা, তাই অনুষ্ঠানটি ৫ মে করা হতে পারে।

No comments:
Post a Comment