কলকাতা: কলকাতা পুরসভাতেও ভাঙনের সুর। আগেই ৯ নম্বর বরো চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছিলেন দেবলীনা বিশ্বাস। এবারে পুরনিগমের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী। জানা যাচ্ছে, ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সুশান্ত ঘোষ। পাশাপাশি 'মিউনিসিপ্যাল অ্যাকাউন্টস কমিটির' চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন অরূপ চক্রবর্তী। সুশান্ত ১০৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং ৯৮ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। পুর প্রশাসনের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও কাউন্সিলর হিসেবে আপাতত কাজ চালিয়ে যাবেন দু'জনেই।
বুধবার পুরসভায় গিয়ে নিজের ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন দু'জনেই। জানা যায়, পরে মেয়রের হাতে তা জমা দেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সুশান্ত জানান, "ভোটে হারের পর ২৪, ২৫ দিনে কোনও মন্ত্রীকে দেখা যায়নি। তাঁরা জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরতেন, কেউ নেই রাস্তায়। যাঁদের জন্য আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ঘেঁষতে পারতাম না। ধন্যবাদ বিজেপিকে। তাঁরা আমাদের ঘরছাড়া ছেলেদের ঘরে ফেরাতে সাহায্য করেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব, ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানো।"
নিজের ওপর হামলার ঘটনার তদন্তেও দলের ওপর ক্ষুব্ধ সুশান্ত। অভিযোগ, তদন্ত ঠিকপথে হয়নি। যে হামলাকারীরা জেলে, তাদের জেলে রাখার জন্য প্রতিবার আলাদা করে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, দু'বছর আগে তাঁর বাড়ির সামনে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকবাজ বাইকে করে এসে লক্ষ্য করে চালিয়েছিল।
অন্যদিকে, কলকাতা পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। তিনিও এই পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। তিনি বলেন, 'আজকের হার মেনে না নিলে বিগত নির্বাচনগুলির জয় আর জয় থাকে না। তা মিথ্যা হয়ে যায়। মানুষের রায় আগে মেনে নিতে হবে। নাহলে মানুষ ক্ষমা করবেন না। নেতা, মন্ত্রী, কেষ্ট-বিষ্টুরা ভেবেছিলেন, সারাজীবন পদে থাকবেন। কিন্তু এখন তাঁরা কোথায়? আজ আমি দলের একটা পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। এটা প্রতীকী প্রতিবাদ। কিন্তু ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। মুখপাত্র পদে কাজ চালিয়ে যাব।' তিনি এও বলেন, 'মানুষের এই জানাদেশ মাথা পেতে নিচ্ছি। চাইলে সব পদ ছেড়ে দেব।'
একেই রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে। এরপর দুই কাউন্সিলরের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়ায় কলকাতা পুরসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভিত যে নড়বড়ে হল, এ নিয়ে দ্বি'মত নেই।

No comments:
Post a Comment