কলকাতা: জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আগেই। এবারে দলীয় সব পদে ইস্তফা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। দলীয় সাংগঠনিক পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সিকে চিঠি দিয়েছেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দল ছাড়ছেন না বলে দলকে আশ্বস্ত করেও কাকলির বক্তব্য, 'অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক পদ, কমিটি ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছি।'
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, 'যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপর অন্য একজন অশিক্ষিত অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা উর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা, সহানুভূতি পাওয়া যায় না সে পদে থাকার মানে হয় না।'
শুধু তাই নয়, দুর্নীতি থেকে আইপ্যাক প্রসঙ্গ উঠে এসেছে তৃণমূল সাংসদের চিঠিতে। তিনি লিখেছেন, 'রেশন দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োক দুর্নীতি সহ একাধিক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষোভ ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে, এছাড়াও আর জি কর মেডিকেল কলেজে পিজিটি চিকিৎসক অভয়া-র মর্মান্তিক মৃত্যু এবং সেই ঘটনাকে ঘিরে ওঠা সম্ভাব্য ধামাচাপার অভিযোগ সমগ্র সমাজকে ব্যাথিত ও স্তম্ভিত করেছে, এই সমস্ত ঘটনার নৈতিক অভিঘাত আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে অনুভব করেছি।
তাঁর সংযোজন, 'একইসঙ্গে, আই-প্যাক (IPAC)- কে ঘিরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও মহলের তরফে উত্থাপিত একাধিক উদ্বেগজনক অভিযোগ আমাকে বিচলিত করেছে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সমস্কৃতির পরিবর্তে যদি কোনও অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রভাব ক্রমশ সংগঠনের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তবে তা দলের আদর্শ ও ঐতিহ্যের পক্ষে শুভ হতে পারে না বলে আমি মনে করি।'
এখন থেকে দলের একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করবেন বলেও জানিয়েছেন কাকলি। তিনি লেখেন, "এই সিদ্ধান্ত কোনও ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা অভিমান থেকে নয় বরং দল, গণতন্ত্র ও জনজীবনের প্রতি আমার নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি। তবে আমি দল ছেড়ে যাচ্ছি না, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন সাধারণ কর্মী হিসাবে মানুষের পাশে থাকার এবং বাংলার স্বার্থে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার আমি বজায় রাখব।"
উল্লেখ্য, গত ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের একাংশ। সেই তালিকায় আছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। লোকসভার সচেতকের পদ হারানোর পরে সমাজমাধ্যমে ঠুকে পোস্ট আর মাত্র কয়েকদিন আগেই বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন কাকলি। তার আগে কাকলির নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবস্থা করে দিয়েছে মোদী সরকার। এমনকি মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তিন জেলা নিয়ে সমন্বয় বৈঠকেও ছিলেন তিনি। যদিও এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বলেছিলেন, 'প্রশাসন সবার, এটা কোনও দলীয় কর্মসূচী নয়।'
এরপর আবার দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে এই চিঠি। যদিও তিনি দলের সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন, তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের পর্যবেক্ষণ, কাকলির বিজেপিতে যাওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

No comments:
Post a Comment