বকরি ঈদের আগে পশুহত্যা নিয়ে ধুন্ধুমার হাইকোর্টে! রাজ্যের কোর্টেই বল - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, May 22, 2026

বকরি ঈদের আগে পশুহত্যা নিয়ে ধুন্ধুমার হাইকোর্টে! রাজ্যের কোর্টেই বল


কলকাতা: আগামী বুধবার (২৭ মে) বকরি ঈদ। তার ঠিক আগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজ্যে গবাদি পশু হত্যা এবং পশু কেনাবেচা নিয়ে জারি হওয়া কড়া সরকারি বিজ্ঞপ্তি ঘিরে তীব্র আইনি লড়াই দেখা গেল কলকাতা হাইকোর্টে। পালাবদলের পরে রাজ্যে ১৯৫০ সালের 'পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন' কঠোর ভাবে বলবতের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে মোট ১১টি মামলায় এক ডজন আইনজীবী সওয়াল করেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট বাম নেতা তথা সিনিয়র আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য-ও। 


আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য নোটিস সংশোধনের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেছে, '১৯৫০ সালের নিয়মে বলা হয়েছে যে গো-হত্যা সীমিত করা উচিৎ কারণ তারা কৃষিকাজে সাহায্য করে। কিন্তু বর্তমানে কৃষিকাজে গবাদি পশু আর এত বেশি ব্যবহার করা হয় না।' পশুর বয়স নির্ধারণের বিষয় নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি হবে? তিনি আরও বলেন, 'যদি কোনও পশুকে জবাই করার জন্য ফিটনেস সার্টিফিকেট না দেওয়া হয়, তবে ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার বিধান রয়েছে। পৌরসভা এলাকায় কসাইখানাগুলো কোথায়?'



এদিকে বকরি ঈদে গো হত্যা বন্ধ নিয়ে এদিন আদালতে জোরদার সওয়াল করেন মামলাকারীর আইনজীবী দেবযানী সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “বকরি ঈদে গো-হত্যার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হোক।” প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশুহত্যা যে কঠোর নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে তা নিয়েই যত চাপানউতোর। গরু, মোষ, বাছুর হত্যার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত শর্তই কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে এদিন একের পর এক প্রশ্ন ওঠে আদালতে। যদিও এখনও কসাই খানা চালানো ও গো হত্যা নিয়ে দায়ের একগুচ্ছ মামলার শুনানি শেষে হাইকোর্ট রাজ্যের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিই বজায় রেখেছে। 


প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে জানিয়েছে, যেহেতু ১৯৫০ সালের এই সংক্রান্ত আইনে ধর্মীয়, চিকিৎসা ও গবেষণার মতো কারণে পশু বলিতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, তাই এইক্ষেত্রে ধর্মীয় কারণে ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করুক সরকার। 


অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত বকরি ঈদে গো হত্যায় ছাড় দেওয়ার বিষয় রাজ্য সরকারের ওপরেই ছাড়ল হাইকোর্ট। ছাড় দেওয়া যায় কি না, তা ২৪ ঘন্টার মধ্যে খতিয়ে দেখতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। আপাতত সরকারি বিজ্ঞপ্তি খারিজ নয় জানাল আদালত। সরকার নতুন করে কোনও সিদ্ধান্ত নেয় নাকি পুরনো সিদ্ধান্তই বলবৎ থাকে, সেটাই এখন দেখার।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad