'কম্পিউটারে ছাগলের ছবি রেখে---', ভার্চুয়াল বকরি ঈদ পালনের পরামর্শ মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, May 26, 2026

'কম্পিউটারে ছাগলের ছবি রেখে---', ভার্চুয়াল বকরি ঈদ পালনের পরামর্শ মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীর


ন্যাশনাল ডেস্ক, ২৬ মে ২০২৬: সরকার যখন বকরি ঈদের আগে একগুচ্ছ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছে, তখন মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী নীতেশ রানের পরামর্শে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পশুর বদলে কম্পিউটারে ছাগলের ছবি রেখে 'ভার্চুয়াল বকরি ঈদ' পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আর মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীর এই মন্তব্যে মুসলিম সংগঠনগুলো বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। নীতেশ রানে প্রশ্ন তুলেছেন, যারা হোলি ও দিওয়ালিতে হিন্দুদের নানা পরামর্শ দেন, তারা বকরিদের ব্যাপারে কেন চুপ থাকেন? পেটার মতো সংগঠনগুলো মুসলিমদেরও ভার্চুয়াল কোরবানি করার পরামর্শ দেয় না কেন?


মহারাষ্ট্র সরকারের মন্ত্রী নীতেশ রানে একটি সংবাদ সম্মেলনে পশু অধিকার সংস্থা, বলিউড অভিনেতা এবং পরিবেশবাদীদের তীব্র সমালোচনা করে তাদের পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। নীতেশ রানে বলেন, "ওরা আমাদের শুকনো হোলি খেলতে বলে, কিন্তু আপনিও তো ভার্চুয়ালি ছাগল বলি দিতে পারেন। বকরি ঈদ উদযাপনের জন্য আপনার কম্পিউটারে একটি ছাগলের ছবি রাখুন এবং ভার্চুয়ালি সেটিকে বলি দেওয়ার দৃশ্য দেখান। আমাদের হোলি উৎসবে বলা হয় যে পরিবেশ অনুযায়ী হোলি পালন করা উচিৎ, তাই শুকনো হোলি পালন করুন। দিওয়ালির সময় বলা হয় বাজি না পোড়াতে। যারা এই কথা বলেন, তাদের উচিৎ মানুষকে কম্পিউটারে একটি ছাগলের ছবি রেখে এবং ভার্চুয়ালি সেটিকে বলি দেওয়ার দৃশ্য দেখিয়ে বকরি ঈদ উদযাপন করার পরামর্শ দেওয়া।"



তিনি বলেন যে, আজকের আধুনিক যুগে কম্পিউটার স্ক্রিন বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বকরি ঈদে ভার্চুয়ালি ছাগল কোরবানি করা সম্ভব এবং মুসলিম সম্প্রদায় যদি এমন একটি প্রগতিশীল পদক্ষেপ করে, তবে সারা দেশের মানুষ তাঁদের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করবে।


নীতেশ রানের এই ভার্চুয়াল কোরবানির প্রস্তাবে মুসলিম সংগঠনগুলো তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে। প্রথম প্রতিক্রিয়া আসে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দলের নেতা ওয়ারিস পাঠানের কাছ থেকে। তিনি বলেন, এটা বিজেপির একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। প্রথমে গো-হত্যার নামে মুসলমানদের হয়রানি করা হয়েছে, আর এখন বকরি ঈদে বিধিনিষেধ আরোপ করে তাঁদের উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।


নীতেশ রানে আবার ওয়ারিস পাঠানের কথার জবাবও দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'ওয়ারিস পাঠানের এই চিৎকারে কোনও লাভ হবে না; আইন সবার জন্য সমান। ওয়ারিস পাঠান আইন ভাঙার চেষ্টা করে দেখুন, তাহলেই তিনি নিজের ভুল বুঝতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, উৎসবের নামে যারা অন্যদের হয়রানি করে, গোহত্যা করে বা গো-রক্ষকদের ওপর হামলা চালায়, সরকার তাদের কাউকেই ছাড় দেবে না।


উল্লেখ্য, বকরি ঈদ উপলক্ষে মুম্বাইয়ের আবাসিক সোসাইটিগুলোতে নিরাপত্তা ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ এলাকায় ফ্ল্যাগ মার্চ করছে। অনেক সোসাইটির বাইরে বাউন্সার মোতায়েন করা হয়েছে। এমনটা হচ্ছে কারণ দেবেন্দ্র ফড়নবীশের সরকার বকরি ঈদে পশু কোরবানির বিষয়ে কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে।


সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বকরিদে কেউ গোহত্যা করলে তার বিরুদ্ধে এমসিওসিএ ধারায় অভিযোগ আনা হবে। প্রকাশ্যে কোরবানি নিষিদ্ধ; সোসাইটির ভেতরে কোরবানির অনুমতি দেওয়া হবে না। যেহেতু গত দুই-তিন বছর ধরে প্রতি বছরই সোসাইটিগুলোতে পশু কোরবানি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাই সরকার এবার আগে থেকেই নির্দেশিকা জারি করেছে এবং তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই পুলিশও সোসাইটিগুলোর বাইরে ফ্ল্যাগ মার্চ শুরু করেছে। সোসাইটিতে প্রবেশকারী যানবাহনগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে ভেতরে কোনও পশু পরিবহন করা না হয়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad