মালদা: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরপরেই মালদায় ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু। মালদহের জেলাশাসকের দফতরে জরুরি বৈঠক। বৈঠকে বিএসএফ, জেলা প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় পূর্ত সড়ক বিভাগ। জেলার কোন কোন এলাকায় জমির অধিগ্রহণের পরিস্থিতি কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে তা নিয়ে পর্যালোচনা প্রশাসনিক বৈঠকে। দ্রুত জমিজট কাটিয়ে অধিগ্রহণের কাজ শেষ করার সিদ্ধান্ত বৈঠকে।
উল্লেখ্য, মালদহে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে প্রায় ১৭২ কিলোমিটার। এরমধ্যে ৩৩ কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত। এর মধ্যে হবিবপুর এবং বামনগোলা ব্লকে উন্মুক্ত সীমান্তের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া মালদহের ইংরেজবাজার এবং কালিয়াচক-তিন নম্বর ব্লকে বেশ কয়েক কিলোমিটার উন্মুক্ত সীমান্ত রয়েছে।
এর আগে তৃণমূল সরকারের আমলে বেশ কয়েকবার মাপজোখ হলেও জমি অধিগ্রহণ বাস্তব রূপ পায়নি। উল্টে জমি জটে আটকে যায় সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির কাজ।
এরই মধ্যে নতুন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী দেড় মাসের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।ওই নির্দেশের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকেরা, মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর, জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর, কেন্দ্রীয় পূর্তসড়ক বিভাগ কর্তৃপক্ষ বৈঠক করেন। এই বৈঠকে জমি অধিগ্রহণের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শপথের পরেই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল সীমান্ত সুরক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় জমি ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরে মালদহের সীমান্তবর্তী এলাকায় খুশির হাওয়া।
স্থানীয় কৃষকেরাও জানান জমি দিতে তাঁরা ইচ্ছুক। আগের সরকারের আমলে জমি অধিগ্রহণের জন্য মাপজোখ হলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি। অনেকের আবার অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণের পর তাঁরা টাকাও পাননি। বাংলাদেশ থেকে দুষ্কৃতীরা এসে তাঁদের ফসল সহ গবাদিপশু লুটে নিয়ে যেত বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষেরা।

No comments:
Post a Comment