কলকাতা: নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই দুর্নীতিতে 'জিরো টলারেন্স নীতি' গ্ৰহণ করা হয়েছে। একের পর এক অভিযুক্তদের হাজতে পুরছে পুলিশ। এবারে পুলিশ প্রশাসনের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "পুলিশ তো কাউকে খুঁজে পায় না। সন্ধ্যেবেলা তাদের সঙ্গেই বসে খায়। তারপর বলে পাচ্ছি না খুঁজে। সব জায়গায় এটা হয়। কিন্তু পুলিশের অভ্যেস না পাল্টালে তো পাবলিক পাল্টে দেবে। শুরু হয়ে গিয়েছে অনেক জায়গায়। পুলিশের অনেক দিন ধরেই এমন বদভ্যাস রয়েছে। মিথ্যা কথা বলা, নেতাদের সঙ্গে গা ঘষে ঘষে চলা। চোর-ডাকাতদের সঙ্গে শেয়ার করা। এইগুলো বদলানো দরকার।" রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন আটক হওয়ার ঘটনা নিয়েই মন্ত্রীর এহেন বক্তব্য, বলে মনে করছেন অনেকে।
রাজ্যের মন্ত্রীর মুখে মঙ্গলবার শোনা গিয়েছে জনরোষের কথাও। দিলীপ ঘোষ বলেন, 'মানুষ ক্ষেপে গিয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশকে নিজের দায়িত্ব পালনের কথাও বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, "মানুষ যে ভাবে বেরিয়ে আসছে। কে কাকে বাঁচাবে? পুলিশ মানুষকে বাঁচাবে। পুলিশকে কে বাঁচাবে? যা ঘটনা ঘটছে চারদিকে। মানুষ ক্ষেপে গিয়েছে এই অত্যাচার সহ্য করতে করতে। আর সব জায়গায় অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুলিশ। এই সব খবর আসছে আমাদের কাছে। পুলিশ নিজের দায়িত্ব পালন করুক। নাহলে জনরোষ এমন হবে যে, কেউ কাউকে বাঁচাতে পারবে না।"
এরপর দিলীপ ঘোষের মুখে সরকারি আধিকারিকদের বিগড়ে যাওয়ার কথা। তিনি তো সরাসরি বলেই দিলেন, অনেক আধিকারিকদের আগে খারাপ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু নিচু তলার পুলিশকর্মীই নন, ওসি, আইসি থেকে শুরু করে বিডিও এবং এসডিও-দের মতো শীর্ষ স্তরের প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশের 'বিগড়ে যাওয়া' নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। যদিও এর জন্য পূর্বতন ব্যবস্থার দায়ও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, "এই যে অফিসাররা বিগড়েছে। ওসি হোক, আইসি হোক, বিডিও হোক বা এসডিও হোক। বিগড়েছে কেন? এদের ব্যবহার করা হয়েছে খারাপ কাজে। আর ধীরে ধীরে ওটাকেই ওরা স্বাভাবিক মনে করেছে। বেআইনিকে আইনি মনে করা। নিজের অধিকার ফলিয়ে সব জায়গায় সুবিধা নেওয়া। সব জায়গায় সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে, অত্যাচারিত হয়েছে। এখন তো কমপক্ষে ঠিক হওয়া উচিৎ, নাহলে এদের গ্যারেজ করা হবে বা আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।"

No comments:
Post a Comment