ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৩ মে ২০২৬: সামরিক বিমান হামলায় ১০০ জনের বেশি নাগরিকের মৃত্যু। নাইজেরিয়ায় এই সামরিক বিমান হামলা নিয়ে বড় ধরণের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবী করেছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি বাজারে বিমান হামলায় প্রায় ১০০ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে, নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী এই দাবী প্রত্যাখ্যান করেছে। সোমবার জারি করা এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, রবিবার তুমফার বাজারে একটি সামরিক বিমান হামলা চালানো হয়। সংস্থাটির অভিযোগ, এই হামলায় বহু নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছেন।
রেড ক্রস আধিকারিক ইব্রাহিম বেলো গারবাও এপি সংবাদ সংস্থাকে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এই হামলায় ‘বহু নাগরিক’ নিহত হয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল নাইজেরিয়ার পরিচালক ইসা সানুসি এপি-কে বলেন, “শুধু একটি গ্রামেই ৮০ জনকে কবর দেওয়া হয়েছে। নিহতরা যে সশস্ত্র দলের সদস্য ছিল, তার কোনও প্রমাণ নেই। তারা সবাই সাধারণ নাগরিক। তাদের অধিকাংশই অল্পবয়সী মেয়ে ও শিশু।” এদিকে, নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী এপি-কে বিমান হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নাগরিকদের হতাহতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাইকেল ওনোজা বলেছেন, "সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নাগরিক হতাহতের দাবীর সপক্ষে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই। সাধারণ নাগরিকরা আমাদের নিশানা নন এবং তাঁদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।" সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে যে, ওই এলাকায় সামরিক অভিযান এখনও চলছে। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন নাইজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে বোকো হারাম-সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে সামরিক বিমান হামলায় নাগরিক মৃত্যু হওয়ার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
গত মাসে নাইজেরিয় বিমান বাহিনীর একটি ভুলবশত বিমান হামলায় প্রায় ১০০ জনের মৃত্যু হয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিমান বাহিনী ও স্থল বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এ ধরণের ঘটনা বারবার ঘটছে। তবে, নাইজেরিয় কর্তারা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছেন যে, সামরিক বাহিনী কেবল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেই নিশানা করে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোষ্ঠীগুলো প্রায়শই স্থানীয় জনগণের মধ্যে লুকিয়ে থাকে, যার ফলে সাধারণ নাগরিক ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।

No comments:
Post a Comment