নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা, ২৫ মে ২০২৬ : মুর্শিদাবাদের পর মালদায় চালু হয়ে গেল হোল্ডিং সেন্টার। ইংরেজবাজার শহরের চন্দনপার্ক, এটাই মালদা জেলার একমাত্র হোল্ডিং সেন্টার। সোমবার জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত ৯ জনকে এনে রাখা হয়েছে এই হোল্ডিং সেন্টারে। যার মধ্যে ৩ মহিলা ও ৬ নাবালক-নাবালিকা আছে। রবিবার এদের গাজোল থানার পান্ডুয়া থেকে ধরে আনা হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে এর আশপাশ চত্বর। সেখানে সিসিটিভি বসানো হয়েছে। ১২ জন পুলিশ, ৩ জন সিভিল ডিফেন্স, ৩ সিভিক ও রান্নার জন্য রাঁধুনি নিযুক্ত করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উত্তর মালদহের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, "আমাদের ভারতীয় নাগরিক নন, এরকম যে সমস্ত ব্যক্তি আছেন, তাঁদের আমাদের দেশ থেকে তাঁদের নিজের দেশে ফিরতে হবে। এটা তো খুবই জরুরি। আমরা একসময় দেখেছি পশ্চিমবঙ্গ অনুপ্রবেশে ভর্তি হয়েছিল।' তিনি বলেন, 'আমাদের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম পদক্ষেপ করেছেন, আমরা রাজ্যকে সুরক্ষিত করব। আমাদের দেশকে সুরক্ষিত করব। এতদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের রাজ্যটাকে রোহিঙ্গাদের, সন্ত্রাসবাদীদের, জেহাদিদের একটা করিডর হিসাবে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছিল।”
এই প্রসঙ্গে কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, "এটা নাগরিকত্ব দেওয়া বা অবৈধ প্রবেশ সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিশ্চয়ই কোনও তথ্য এসেছে, তাই তারা এটা করছে।সত্যিকারের যারা অনুপ্রবেশকারী তাদের শাস্তি হোক কিন্তু যারা ভারতের নাগরিক তাঁদের বিরুদ্ধে যেন এই ধরণের কিছু পদক্ষেপ না হয়।
তিনি বলেন, "আমি তো বারবার বলছি যারা বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে আসবেন, এখানে সন্ত্রাস মূলক কাজ করবে, নোংরামি করবে, তাদের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ করা হোক। হোল্ডিং সেন্টারের বিষয়ে তিনি বলেন, "এটা তো কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়।" আর এটা তৈরি হওয়াতে সন্ত্রাসবাদীরা ভয় পাবে বলেই মত তৃণমূল নেতার।
রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের ২ সপ্তাহের মাথায়, অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে ধৃতদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। ফরেনার্স ব্রাঞ্চের তরফে শনিবার এই মর্মে একটি নির্দেশিকা সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছে। ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করার কারণে ধৃত বাংলাদেশি অথবা রোহিঙ্গাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠাতে অন্যান্য জেলার পাশাপাশি মালদাতেও হোল্ডিং সেন্টার তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করে দেয় জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, জেলাশাসকের দপ্তর সংলগ্ন এলাকায় হোল্ডিং সেন্টার করা হবে। যাঁরা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের এখানে এনে রাখা হবে। ধীরে ধীরে তাঁদের ডিপোর্টে করার ব্যবস্থা করা হবে। সেইমতো ইংরেজবাজারের চন্দনপার্কে আপাতত একটি সেন্টার চালু হল।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালেই মুর্শিদাবাদে তিন বাংলাদেশিকে হোল্ডিং সেন্টারে রাখার খবর পাওয়া গিয়েছিল। লালগোলার পদ্মাভবনের তিনতলায় যে হোল্ডিং সেন্টারটি গড়ে উঠেছে, সেখানে রয়েছেন ৩ জন বাংলাদেশি পুরুষ। এরপর মালদাতেও ৯ জনকে রাখা হল হোল্ডিং সেন্টারে।

No comments:
Post a Comment