ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৫ মে ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আজ ভারতেও দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রধানমন্ত্রীর মোদী দেশবাসীর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন অযথা বিদেশ ভ্রমন এড়াতে, অন্তত এক বছর সোনা না কিনতে এবং জ্বালানি খরচে সংযমী হতে। এই আবহেই বিদেশ ভ্রমণ সংক্রান্ত একাধিক গুজব ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। কিন্তু এই সব গুজব স্পষ্ট ভাবে খারিজ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার তিনি সেইসব প্রতিবেদন জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে দাবী করা হয়েছিল যে, চলমান সংঘাত-সংক্রান্ত অর্থনৈতিক চাপের আর্থিক প্রভাব মোকাবেলায় কেন্দ্র বিদেশ ভ্রমণের ওপর সেস, কর বা সারচার্জ আরোপের কথা বিবেচনা করছে।
এক্স-এ একটি পোস্টে এই প্রতিবেদনের জবাবে প্রধানমন্ত্রী মোদী লেখেন, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। বিদেশ ভ্রমণের ওপর এই ধরণের বিধিনিষেধ আরোপের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমরা আমাদের জনগণের জন্য ‘ব্যবসা করার সহজতা’ এবং ‘জীবনযাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য’ উন্নত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
উল্লেখ্য, সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবী করা হয় যে, বিদেশ ভ্রমণের ওপর একটি সম্ভাব্য অস্থায়ী সেস বা সারচার্জ আরোপের বিষয়ে “সর্বোচ্চ পর্যায়ে” আলোচনা চলছে। এর পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই প্রতিক্রিয়া আসে।
প্রতিবেদনটি অনুসারে, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্রমবর্ধমান অপরিশোধিত তেল ও আমদানি ব্যয়ের কারণে সৃষ্ট আর্থিক প্রভাব সামাল দেওয়ার জন্য এই প্রস্তাবিত কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও দাবী করা হয় যে, বিদেশ ভ্রমণের ওপর যেকোনও সেস, কর বা সারচার্জ বিভাজ্য কর তহবিলের পরিবর্তে সরাসরি কেন্দ্রে জমা হবে এবং এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে এক বছরের জন্য কার্যকর থাকতে পারে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয় যে, এই প্রস্তাব সংক্রান্ত কোনও প্রশ্নের জবাব অর্থ মন্ত্রণালয় দেয়নি।
তবে, প্রধানমন্ত্রী মোদী এই দাবীগুলো অস্বীকার করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে, সরকার নতুন কোনও বিধিনিষেধ আরোপের পরিবর্তে নাগরিকদের জন্য ব্যবসা ও ভ্রমণ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করার দিকেই মনোনিবেশ করছে।
প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে চলমান মার্কিন-ইজরায়েল সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত সপ্তাহে ১০ই মে হায়দ্রাবাদে একটি জনসভায় নাগরিকদের সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে এবং এক বছরের জন্য অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত করার আবেদন জানিয়েছিলেন।


No comments:
Post a Comment