নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুর: রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। রাজ্যে এখন বিজেপির সরকার। আর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যজুড়ে পদত্যাগের হিড়িক দেখা দিচ্ছে। এবার গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পবিত্র কর। শুধু তাই নয়, তাঁর স্ত্রী শিউলি করও ইস্তফা দিয়েছেন।
পবিত্র কর ও তাঁর স্ত্রী শিউলি কর দুজনেই বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করেন। বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের পদে ছিলেন শিউলি এবং সদস্য হিসাবে ছিলেন পবিত্র কর। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগের মুহুর্তে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেও সদস্যপদ ছাড়েননি। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পবিত্র কর পরাজিত হয়। পরাজয়ের পর স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই নিজেদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে সদস্যপদ ছাড়ার আবেদন জানাষ।
উলেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, "আমিও তৃণমূলে ছিলাম। কিন্তু দলের সমস্ত পদ ছেড়ে তারপর বিজেপিতে যোগদান করি। কিন্তু আমার বিপরীতে যিনি দাঁড়িয়েছে উনি এখনও বিজেপির সদস্যপদ ছাড়েননি। নির্বাচন বিধি অনুসারে ওনার প্রার্থীপদ বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু আমরা অভিযোগ করিনি।"
প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন পবিত্র কর। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর জয়ের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনিক ভূমিকা ছিল তাঁর। তবে পরে বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় এবং তিনি কিছুটা রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে তাঁর তৃণমূলে যোগদানকে ঘিরে যথেষ্ট জল্পনা তৈরি হয়েছিল। বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে স্থানীয় সমীকরণে পবিত্র করকে বড় অস্ত্র হিসেবেই ব্যবহার করতে চেয়েছিল তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু ভোটের ফলাফলে সেই কৌশল সফল হয়নি। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন পবিত্র কর।

No comments:
Post a Comment