পশ্চিম বর্ধমান: দিকে দিকে সন্ত্রাস, তোলাবাজি, দুর্নীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের অভিযোগে দিকে দিকে গ্রেপ্তার হচ্ছে তৃণমূল নেতা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে উঠছে বিস্ফোরক সব অভিযোগ। কোথাও কাটমানি, কোথাও তোলাবাজি, কোথাও আবার রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালিয়ে বিরোধীদের দমিয়ে রাখার অভিযোগ। সেই তালিকায় জুড়ল আরও দুই নাম। সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূল পরিচালিত ছোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রামচরিত পাশওয়ানকে। অন্ডাল থানার পুলিশ তাকে গ্ৰেফতার করে। ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অন্যদিকে বিধাননগর পৌরসভার এক কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ, ২০২১ সাল থেকে এলাকায় দাপটের সঙ্গে সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করেছিল রামচরিত পাশওয়ান। স্থানীয়দের দাবী, সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তোলাবাজি, হুমকি, মারধর ও বিভিন্ন অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল সে। বিশেষ করে বিজেপি সমর্থক এবং বিরোধী মতের মানুষদের টার্গেট করে লাগাতার হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। কেউ প্রতিবাদ করলেই চলত ভয় দেখানো, মারধর এমনকি এলাকাছাড়া করার হুমকি। দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের।
এলাকার মানুষের দাবী, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এতদিন ধরে প্রশাসনের চোখ এড়িয়ে চলছিল এই তৃণমূল নেতা। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছিল না। কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই সক্রিয় হয়েছে পুলিশ। এরপরই একের পর এক অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত এবং শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয় রামচরিত পাশওয়ানকে। ধৃতকে মঙ্গলবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।
অন্যদিকে সোমবার গভীর রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে বিধাননগর পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশোভন মণ্ডল ওরফে মাইকেলকে। অভিযোগ, কেষ্টপুর এলাকায় একটি দোকান সংস্কারের জন্য দোকানদারের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা 'তোলা' দাবী করেছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী টাকা দিতে অস্বীকার করতেই কাউন্সিলর দোকান সংস্কারের কাজ আটকে দেন। এরপর ওই ব্যবসায়ী বাগুইআটি থানায় অভিযোগ করেন। পুলিশ জানায়, সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সুশোভনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

No comments:
Post a Comment