উত্তর ২৪ পরগনা: নিজের এলাকাতেই বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। তৃণমূল সাংসদকে দেখে চোর-চোর স্লোগান, গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হল ডিম! নিমতা থানায় ডেপুটেশন দিয়ে বেরনোর সময় প্রবল বিক্ষোভের মুখে সৌগত রায়। দলীয় কর্মীরা আক্রান্ত এই অভিযোগে ডেপুটেশন দিয়ে বেরনোর সময় এই ঘটনা ঘটে। নিজের এলাকায় এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই কি দিকে দিকে? যদিও তৃণমূল সাংসদের দাবী, বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। এই ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ।
অভিযোগ, নিমতা বা উত্তর দমদমের একাধিক এলাকায় তৃণমূল কাউন্সিলররা আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর সেই বিষয়েই ডেপুটেশন দিতে নিমতা থানায় গিয়েছিলেন সৌগত রায়। তিনি যখন নিমতা থানা থেকে বেরোচ্ছেন, ঠিক সেই সময়েই তাঁকে দেখে বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরু হয় চোর-চোর স্লোগান। সাংসদ গাড়িতে উঠে পড়লে, তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ এবং তাঁকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয় বলেই অভিযোগ।
সৌগত রায় বলেন, 'বুধবার পাঁচ জন তৃণমূল কাউন্সিলারের বাড়িতে হামলা হয়েছে। আমরা তাই নিয়ে অভিযোগ করতে গিয়েছিলাম থানায়। থানা থেকে বেরোনোর সময়ে বলছে চোর চোর। আমি বললাম, কাকে চোর বলছ? অসভ্যতা করছে, চিৎকার করছে। আসলে বিজেপির কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।' তিনি বলেন, একদিকে যখন সুশাসনের কথা বলা হচ্ছে, তখন সাংসদকে ঘিরে এমন বিক্ষোভ কেন হচ্ছে? তবে, দমদমের সাংসদ জানান, আজ যে ছবি দেখা গেল, এই ঘটনা তাঁর ১৭ বছরের সাংসদ জীবনে বিরল।
এদিকে সৌগত রায়কে ঘিরে বিক্ষোভের বিষয়ে মুখ খুলেছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা মলয় নাগ। তিনি বলেন, "সৌগত রায় এসেছিলেন। তৃণমূলের কিছু মানুষকে ধরপাকড় চলছে হয়তো। সেই কারণেই তিনি বলতে এসেছিলেন। বা ছাড়াবার ব্যবস্থা করতে। কিন্তু উনি য দুর্নীতি করেছেন, যে দুর্নীতি করতে দেখা গিয়েছে, তাতে এ তো কম আক্রোশ। সামান্য ডিম ছোড়া হয়েছে। সুযোগ পেলে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।"
পাশে দাঁড়িয়ে তখন ক্ষোভে ফুঁসছিলেন আরও এক স্থানীয় বাসিন্দা রমা দাস। তিনি বলেন, 'আমি থাকলে জুতো ছুড়তাম। আমি ছিলাম না বলে আজকে তৃণমূলের সংসদ বেঁচে গেছেন আমি থাকলে জুতো খুলে মারতাম ওনাকে। ডিম ছোড়া হয়েছে, এটা শুধু ট্রেলার, পিকচার এখনও বাকি।'

No comments:
Post a Comment