তরমুজ খেয়ে মৃত্যুর কোলে কিশোর, অসুস্থ আরও ৪ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, May 12, 2026

তরমুজ খেয়ে মৃত্যুর কোলে কিশোর, অসুস্থ আরও ৪

 


ন্যাশনাল ডেস্ক, ১২ মে ২০২৬: তরমুজ খেয়ে ১৫ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, আরও চারজন অসুস্থ হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু ও একজন নাবালক। তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ তরমুজের নাম শুনেও ভয় পাচ্ছেন। ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগিরে ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। 


ছত্তিশগড়ের জাঞ্জগির-চম্পা জেলার ঘুরকোট গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। তরমুজ খেয়ে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে এবং তার পরিবারের আরও চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। মৃত কিশোরের নাম অখিলেশ ধিওয়ার। মৃত অখিলেশ ধিওয়ার পোডি ডালহা গ্রামের বাসিন্দা ছিল।


আধিকারিকদের মতে, অসুস্থ হয়ে পড়া অন্য তিন শিশু-সহ চার জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হল আওয়ারিদ গ্রামের শ্রী ধিওয়ার (৪), খাটোলার পিন্টু ধিওয়ার (১২) ও নরেন্দ্র ধিওয়ার (১৭) এবং কোটগড়ের হিতেশ ধিওয়ার (১৩) পরিজনদের সঙ্গে মামা সন্তোষ ধিওয়ারের বাড়ি ঘুরকোট গ্রামে গিয়েছিল।


শিশুদের এক আত্মীয় মহেন্দ্র কুমার জানান, শিশুরা রবিবার দুপুরে বাড়িতে রাখা তরমুজ খেয়েছিল। জানা যাচ্ছে, তরমুজটি সকালে কেটে রাখা হয়েছিল এবং শিশুরা কয়েক ঘন্টা পর সেটি খায়। শিশুদের মধ্যে কয়েকজন রাতে মুরগির মাংসও খেয়েছিল। তরমুজ খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই অখিলেশের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে শুরু করে। রাতে তার বমি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। অবস্থা আরও খারাপ হলে সোমবার সকালে তার পরিবার তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু পথেই তার মৃত্যু হয়।


এই ঘটনার পর পরিবারটি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। অখিলেশের পর বাকি চারজনেল মধ্যে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। তাদেরও সঙ্গে সঙ্গে জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়, যেখানে তারা বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।


এই বিষয়ে জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. এস. কুজুরের একটি বিবৃতি সামনে এসেছে। তিনি বলেন, "রবিবার সন্ধ্যায় শিশুরা বাড়িতে রাখা একটি কাটা তরমুজ খেয়েছিল। কয়েক ঘন্টা পর অখিলেশের বমি, ডায়রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে অন্য তিন শিশুর মধ্যেও একই উপসর্গ দেখা যায়। তাদের অবস্থার অবনতি হলে, পরিবার সোমবার বিভিন্ন সময়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অখিলেশকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তিন শিশুকেও জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।" 


তিনি বলেন, "মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ভিসেরার নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাড়িতে রাখা আরেকটি তরমুজ পরীক্ষাগারে পরীক্ষার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো হয়েছে।"


আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়ার পরেই মৃত্যু ও অসুস্থতার সঠিক কারণ জানা যাবে।


ডাঃ এস কুজুর বলেন, "তরমুজটি সকালে কাটা হয়েছিল এবং বেশ কয়েক ঘন্টা পর সেটা খাওয়া হয় এতে করে এটি দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে যে, দূষিত তরমুজটি খাওয়ার পরেই শিশুরা খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল।"


এদিকে, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সংক্রমণ, পচা ফল, নাকি অন্য কোনও কারণে শিশুদের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে, তা নির্ধারণ করতে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad