জামিন পেলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন! - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, May 26, 2026

জামিন পেলেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন!


কলকাতা: জামিন পেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। সোমবার রাতে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে পথচারীকে ধাক্কা মারার অভিযোগে তাঁকে আটক করেছিল ইকো পার্ক থানার পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে 'মোটর ভেহিকলস অ্যাক্ট'-এর আওতায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর এদিন দুপুরে প্রশান্তকে তোলা হয়েছিল বারাসতের সিজেএম আদালতে। অবশেষে ১ হাজার টাকার বন্ডে তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেন বিচারক।


গত অক্টোবরের সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ ও খুনের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এই ঘটনায় পুলিশ তার সহযোগীদের গ্রেফতার করলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান প্রশান্ত বর্মন। কলকাতা হাইকোর্ট এমনকি সুপ্রিম কোর্ট তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও, তিনি তা পালন না করে গা ঢাকা দেন। এই পরিস্থিতিতেই চার্জশিটে তাঁকে 'পলাতক' বলে উল্লেখ করে নথি জমা দেয় পুলিশ। এরপর প্রশান্ত বর্মনকে বহুবার শিলিগুড়ির শিবমন্দিরে তার বাড়িতে ও এলাকায় দেখতে পাওয়া গেলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেই অভিযোগ উঠেছিল।


এরপর সোমবার রাতে এক ব্যক্তি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেন (এর সত্যতা যাচাই করেনি প্রেসকার্ড নিউজ)। সেই ভিডিওতে দেখা যায় যে, কলকাতার নিউটাউন এলাকায় একটি বড় গাড়িতে চালকের আসনে বসে রয়েছেন অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন। এক ব্যক্তি তাঁর সেই পরিচয় উল্লেখ করে জানাচ্ছেন যে, প্রশান্ত মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তিকে ধাক্কা মারে।


ভিডিও করা হচ্ছে বুঝে প্রথমে প্রশান্ত থামাতে যান ওই ব্যক্তিকে। তারপর তাড়াতাড়ি মাস্কে মুখ ঢাকতেও দেখা যায় তাঁকে। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, গাড়ির সামনের দিকে ডেন্ট দেখা যায়। অভিযোগ, প্রশান্তের গাড়ি এসে ধাক্কা মারে এক ব্যক্তিকে। ভিডিওতে দেখা যায়, আহত ব্যক্তির পায়ে বেশ ভালোই চোট রয়েছে। পা ফুলে ও কেটেও গিয়েছে সেই ব্যক্তির। যে ব্যক্তির পায়ে চোট লেগেছে, তিনি এসে ছিটকে পড়েন ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তির বাইকের সামনে। কিন্তু সরাসরি ধাক্কা মারার অভিযোগ অস্বীকার করতেও শোনা যায় অপসারিত বিডিওকে।


শুধু তাই নয়, গালিগালাজ এবং হুমকি দিতেও শোনা যায় প্রশান্তকে। দুর্ব্যবহার থেকে বাদ যায়নি পুলিশও। কিন্তু প্রতিবাদকারী ব্যক্তিও দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি পুরো ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন এবং পুলিশের কাছে প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান। ঘটনাস্থলে কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ আধিকারিকরা এসে পৌঁছয়। এরপরেই পুলিশের জালে আটকা পড়েন প্রশান্ত বর্মন। পরে এদিন সকালে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হয়।


প্রশান্তর জন্যই কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল আদালত চত্বর। পুলিশের গাড়ি থেকে তিনি যখন নামেন তখন তোয়ালে দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রেখেছিলেন। কিন্তু পরে মুখ খোলা রেখেই কোর্ট লকআপ থেকে তাঁকে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আদালতে। তবে শুধু মাত্র 'মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্ট'-এই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা সাজিয়েছিল পুলিশ। পুরোনো মামলা অর্থাৎ স্বপন কামিল্যা খুনের ঘটনা তার সঙ্গে 'ট্যাগ' করা হয়নি।


আর 'মোটর ভেহিক্যালস অ্যাক্টের' যে যে ধারায় প্রশান্তর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, তার সব ক'টিই জামিনযোগ্য বলে জানিয়েছিলেন সরকারি আইনজীবী লাবণ্য জানা। তাঁর কথায়, 'পুরোনো মামলার সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগ নেই। এ দিন যে যে ধারায় মামলা উঠেছে, তা জামিনযোগ্য।' 


আর পুরোনো মামলা ট্যাগ না হওয়ায় জামিন পেতে কোনও অসুবিধা হয়নি রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও-র। রাত ৮টা নাগাদ আদালত চত্বর ছেড়ে বেরতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন সাংবাদিকরা। তবে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি। আগে থেকেই ক্যাব বুক করে রেখেছিলেন। আদালত চত্বর ছেড়ে সেই ক্যাবেই বেরিয়ে যান তিনি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad